প্রধান সূচি

সুন্দরবনে আশ্রয় নেয়া জেলেদের আটক করে বন বিভাগের মামলা

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে বৈরী আবহাওয়ায় নিরাপত্তার জন্য সুন্দরবনে আশ্রয় নেয়া মাছধরা নৌকার জেলেদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পিরোজপুরের পাড়েরহাটের বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী ও দুবলা ফিশার মেন গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহানুর রহমান শামীম এ অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, সোমবার পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়ার কংসা জেলে পল্লীর দু’টি মাছ ধরা নৌকা দুবলার চরের আলোরকোলে আটক করা হয়। বন বিভাগের আধুনিক টহলদল ‘স্মার্টটিম’ এফবি মায়ের দোয়া-১ ও মায়ের দোয়া নামে দু’টি মাছ ধরা নৌকা ও ১৯জন জেলে আটক করে বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়িতে হস্তান্তর করে। তিনি জানান, ৬৫ দিনের অবরোধের পর উপকূলের জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়েই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের ৪টি সামুদ্রিক বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় বাধ্য হয়ে জেলেরা উপকূলের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসেন। সুন্দরবন উপকূলে সাগরে অবস্থানরত জেলেদের অনেকে দুবলার চর, নারিকেলবাড়িয়া, শেলারচর, কঁচিখালীসহ সুন্দরবন এলাকার বিভিন্ন খালে আশ্রয় নেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি নৌকার জেলেদের আটক করেন বন বিভাগের স্মার্টটিমের সদস্যরা। শাহানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তিন সপ্তাহ আগে সাগরে মৎস্য আহরণের অবরোধের মধ্যে বঙ্গোপসাগর উপকূল ও সুন্দরবনের মধ্যে থেকে বৈরী আবহাওয়া কবলিত ভারতের শতাধিক মাছ ধরা নৌকা জেলেসহ কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী উদ্ধার করে এবং সসম্মানে তাদের আবার ভারতে ফেরত পাঠায়। অথচ একই ধরণের বিপদের মধ্যে বৈধভাবে মৎস্য আহরণকারী বাংলাদেশের জেলেদের বন বিভাগের স্মার্টটিম আটক করে বন আইনে মামলা দেয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের (পূর্ব) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, আলোরকোল থেকে দু’টি জেলে নৌকা আটক করা হয়েছে। যাদের সুন্দরবনে প্রবেশ করার অনুমতিপত্র বা বোট লাইসেন্স (বিএলসি) নেই। তাই বন আইন অনুযায়ী তাদের জরিমানা করা হয়েছে। দুবলাচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক জানান, বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে জেলেরা অনেক সময় সুন্দরবনে আশ্রয় নেন। পাশ-পারমিট না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণত বন আইনে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। তবে অনেক সময় মানবতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া না। কিন্তু সোমবার যে দু’টি জেলে নৌকা আটক করা হয়েছে তা খুলনার বন সংরক্ষকের নিয়ন্ত্রণাধীন স্মার্টটিমের এখতিয়ারভূক্ত হওয়ায় টহল ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষের করার কিছু নেই।

খুলনার বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুন্দরবনে আশ্রয় নেয়া জেলেদের আটক করার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial