পিরোজপুরে আ’লীগের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী এমপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ॥ ইটপাটকেল নিক্ষেপ
পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে শহরের ক্লাব রোড ও সদর রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পিরোজপুর শহর উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার এক পক্ষে রয়েছে পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের সমর্থকবৃন্দ এবং অন্য পক্ষে রয়েছে টুঙ্গীপাড়া শেখ পরিবারের পুত্রবধু ও মুক্তিযুদ্ধকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৎকালীন এমএনএ এবং বাকশালের গভর্নর মরহুম এডভোকেট এনায়েত হোসেনের কন্যা শেখ এ্যানী রহমানের সমর্থকরা। গত দুই দিন ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা ও মারমুখী পরিস্থিতি বিরাজ করায় শহরে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা ও কড়া নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে শেখ এ্যানী রহমানের গাড়ীর বহরে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর হঠাৎ করে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শেখ এ্যানী রহমানের কর্মী-সমর্থকরা শহরে মঙ্গলবার রাতে তাৎক্ষণিক মিছিল সমাবেশ করে। এ প্রেক্ষিতে আজ বুধবার বিকেলে শহরের ক্লাব রোডে মেয়র মালেক সমর্থকরা শহরে মিছিল ও সমাবেশ করে এবং এ্যানী রহমান সমর্থকদের বিরুদ্ধে মেয়র সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। এ মিছিল মসাবেশ শেষ হওয়ার পরে সন্ধ্যার পর এ্যানী রহমানের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষ শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ মোড়ের ক্লাব রোড ও সদর রোডে লাঠিসোটা নিয়ে করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে এ্যানী রহমান সমর্থক সুইট সিকদার (২০)সহ জ্জ জন আহত হয় বলে জানা যায়। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে হটিয়ে দিলে মেয়র সমর্থকরা টাউন ক্লাব চত্বরে ও এ্যানী সমর্থকরা মহিলা কলেজ সড়কে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবস্থান করছিলেন।
এ্যানী রহমানের সমর্থক পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মাকসুদুল ইসলাম লিটন জানান, সন্ধ্যার পর শহরে মিছিল বের করার জন্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে সদর রোডে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মসজিদ মোড়ে পিছন দিক থেকে মেয়র সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সুইট সিকদারসহ তাদের৩/৪ জন কর্মী আহত হয়।
এদিকে মেয়র মালেক সমর্থক জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিরুল ইসলাম মিরণ জানান, তাদের মিছিল সমাবেশ শেষ করে নেতা-কর্মীরা টাউন ক্লাব মাঠে শান্তিপূর্ন অবস্থান নেয়। সন্ধ্যার পর লিটন সিকদারে নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ মেয়র মালেকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নেতা-কর্মীদের শান্ত করে। তবে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার বিষয়ে শেখ এ্যানী রহমান সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে তার নির্বাচনী প্রচারণাকে বাঁধা সৃষ্টির জন্য একটি পক্ষ সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। এ সময় তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র হাবিবুরর রহমান মালেক বলেন, শেখ এ্যানী রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তার সাথে কোন বিরোধ নেই। তাকে দল মনোনয়ন দিলে আমরা তাকে সমর্থন দেবো। কিন্তু শহরের কিছু অখ্যাত লোক তাকে সামনে রেখে ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে যাচ্ছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম জিয়াউল হক জানান, বিকেলে এক পক্ষের মিছিল-সমাবেশ করার খবর পুলিশের জানা থাকলেও সন্ধ্যার পর অপর পক্ষ হঠাৎ করে মিছিল বের করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়। তবে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিলে বর্তমানে শহরে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে, ঘটনার পর শেখ এ্যানী রহমানের স্বামী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য বঙ্গবন্ধু মোমোরিয়াল ট্রাষ্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান একটি গাড়ি বহর নিয়ে শহরে রওয়ানা হলে পুলিশ থানার সামনে তাকে আটকে দেয়। পরে পুলিশী প্রহরায় তাকে অন্যপথে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে শেখ হাফিজুর রহমান ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, পুলিশ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। শহর থেকে সন্ত্রাসীদের না সড়িয়ে দিয়ে নিরাপত্তার অজুহাত তুলে আমাকে শহরে যেতে দিচ্ছে না। পুলিশ তাদেরকে ভয় পাচ্ছে।
