প্রধান সূচি

আজ পিরোজপুর মুক্ত দিবস

আজ ৮ ডিসেম্বর, পিরোজপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে অগ্রসরমান মুক্তিবাহিনীর সংবাদে ভীত হয়ে পিরোজপুর থেকে পাক হানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। তৎকালীন মহাকুমা শহর হয় শক্রমুক্ত। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মুক্তিযুদ্ধের ৯নং সেক্টরের সুন্দরবন সাব সেক্টর কমান্ডার তৎকালীন লেফটেনেন্ট জিয়াউদ্দিন আহমেদ এর নির্দেশে পিরোজপুরের হুলারহাট রাস্তা দিয়ে সুবেদার আবেদ আলী খান, পাড়েরহাটের গাজীপুরের রাস্তা দিয়ে ইয়ং অফিসার শামসুল হক খান এবং কদমতলা রাস্তা দিয়ে হাবিবুর রহমান সিকদারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শহর অভিমুখে আসতে থাকে। এ খবরে পাকবাহিনী ভীত হয়ে পড়ে এবং তারা তড়িঘড়ি করে পিরোজপুর ত্যাগ করে। এর আগে স্বরূপকাঠী পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা দূর্গে পাকবাহিনী আক্রমন করলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বহু পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমন পাকবাহিনী পর্যুদস্ত হতে থাকে।

১৯৭১ সালের ৪ মে পিরোজপুরে প্রথম পাকবাহিনী প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশদ্বার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে পাকবাহিনীরা প্রবেশের পথে প্রথমেই তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এদিনই তারা ২৮জন নিরিহ মানুষকে হত্যা করে। ৫ মে পাকবাহিনী তৎকালীন মহাকুমা প্রশসাক (দ্বায়িত্ব) আব্দুর রাজ্জাক, মহাকুমা পুলিশ অফিসার লেখক-উপন্যাসিক হুমাছুন আহমেদের পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও ট্রেজারী অফিসার ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফ মিজানুর রহমানকে বলেশ্বর নদীর তীরে গুলি করে হত্যা করে। তারপর ৮ টি মাস স্থানীয় শান্তিকমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতা পক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষকে।

অবশেষে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর ছেড়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে। সম্ভ্রম লুটে নেয় প্রায় ৫ হাজার মা-বোনের।

পিরোজপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শুক্রবার সকাল ১০ টায় শহরের স্বাধীনতা মঞ্চ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং স্বাধীনতা মঞ্চে আলোচনা সভা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial