বাগেরহাটের চিতলমারীতে টমেটো ক্ষেতে ভাইরাস
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার টমেটো গাছ ‘ষ্টোক’ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফুল ও ফলে ভাইরাস দেখা দিয়েছে। চিতলমারী বাজারের কোন কীটনাশকই এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী হচ্ছে না বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন। এই ‘ষ্টোক’ রোগ ও ভাইরাস দমন অথবা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে টমেটো চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বেন বলে আশংকা করছেন।
সোমবার চিতলমারী উপজেলার খড়মখালী, গরীবপুর, দুর্গাপুর, ব্রক্ষগাতী, চরবানিয়ারী, খলিশাখালী ঘুরে দেখা গেছে টমেটো গাছের পাতা ও ফুলগুলো কুঁকড়ে যাচ্ছে। যেদিন পাতা কোঁকড়াচ্ছে তার পরের দিনই মারা যাচ্ছে মূল গাছ।
খড়মাখালী গ্রামের বিপুল মন্ডল ও বিপ্লব মন্ডল জানান, এ মৌসুমে নিজেরা বীজতলা তৈরী করে সাড়ে ৬ বিঘা (প্রতিবিঘায় ৬৮ শতাংশ) জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের প্রায় ৮০ ভাগ টমেটো গাছ ষ্টোকরোগ ও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। টমেটো গাছগুলো বাঁচানোর জন্য তারা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বাজার হতে সিনজেনটা, প্রোটোজিম, ক্যাবেরিও-টপ, এমিস্টার-টপ, রিভার্স, অক্সিকল, জিনেব, অটোসিডাসহ নানা প্রকার কীটনাশক হাজার হাজার টাকায় ক্রয় করে ক্ষেতে দিয়েও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। নানা কোম্পানীর কীটনাশকের কৌটায় ঘর প্রায় ভর্তি হয়ে গেছে, কিন্তু রোগ প্রতিরোধ হচ্ছেনা। এখন তাদের প্রায় দিশেহারা অবস্থা। কেন এই রোগ হচ্ছে তা সঠিকভাবে কেউই বলতে পারছে না। তারা আরো জানান, ভাদ্র হতে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত টমেটো চাষাবাদ চলে।
টমেটো চাষি কামরুল হাসান, ননী মন্ডল, গোপী বিশ্বাস, গুরুপদ বৈরাগী, হরিদাস মজুমদারসহ অনেকে জানান, এ অঞ্চলের টমেটো দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা মেটায়। প্রতিবছর এখানে হাজার হাজার টন টমেটো উৎপাদিত হয়। আগতি টমেটোতে ভাল দাম পাওয়া যায়। আগাম টমেটো ফলাতে কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমও করতে হয়। আর এই পরিশ্রমের পর টমেটো গাছের প্রথম ফল দেখে কৃষকের মুখে ফোটে হাসি। কিন্তু ভাইরাস ও ষ্টোক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল হাসান জানান, এ বছর ১ হাজার ৬০৫ একর জমিতে টমেটো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অগ্রীম আবাদ ও অতিবৃষ্টির কারণে কিছু টমেটো ক্ষেতে ভাইরাস দেখা দিয়েছে। চাষিদের সাথে যোগাযোগ করে রোগ নির্ণয়ের প্রচেষ্টা চলছে।
