এ কোন আচরণ !
॥ ফসিউল ইসলাম বাচ্চু ॥
মুক্তিযুদ্ধের ৯নং সেক্টরের সুন্দরবন সাব সেক্টর কমান্ডার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়ার মৃত্যুতে পিরোজপুরসহ দেশব্যাপী যখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সয়ং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংসদ উপনেতা, মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনরা শোক প্রকাশ করছেন। পিরোজপুরে শোক পালনে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। তখন পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজে আজ রবিবার এক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটালো কলেজ ছাত্র সংসদ। কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শিল্পী ভাড়া করে এনে দিনভর কনসার্ট করে আনন্দ উল্লাসে মেতেছিল একদল অবিবেচক বিভ্রান্ত তরুণ। তারা কি জানতো না মেজর (অবঃ) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ তাদের কালেজেরই এক সময়কার মেধাবী ছাত্র। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অকুতোভয় সেনা নায়ক। তথা মুক্তিযুদ্ধের সুন্দরবন সাব সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। তাঁর পিতা মরহুম আফতাব উদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন এই কলেজেরই একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। যার নামে মেজর জিয়া পিরোজপুর শহরে আরও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে অধ্যয়ন করছে এই কোমলমতি ছাত্রদের আরেক অংশ। যারা গত তিনদিন ধরে শোকে মুহ্যমান।
কলেজের ছাত্ররা না হয় অবুঝ, কিন্তু কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ তারাও কি ….। তাদের চোখের সামনে যে অমার্জনীয় অপরাধটি ঘটে গেল সে দায় তারা এড়াবেন কিভাবে ?
কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে গিয়ে প্রবীনদের প্রতি এই অবজ্ঞা, মহান মুক্তিযুদ্ধের এই নায়কের প্রতি অসম্মান করে পিরোজপুরে যে কলঙ্কের অধ্যায় সৃষ্টি করলো তার জবাব কে দেবে ?
