প্রধান সূচি

দুর্নীতির অভিযোগ : মোড়েলগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১১ মেম্বরের অনাস্থা

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩নং পুটিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্চান মিয়া শামীমের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন তার পরিষদের ১১ জন সদস্য। রবিবার দুপুরে এই ১১ জন ইউপি সদস্য উপস্থিত থেকে লিখিত ওই অনাস্থাপত্র মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কাছে জমা দিয়েছেন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সরকারী সম্পদ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে এই অনাস্থা আনা হয়েছে চেয়ারম্যান শাহচান মিয়া শমামিমের  বিরুদ্ধে।

লিখিত অনাস্থাপত্রে আরো বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান শাহ্চান মিয়া শামীম বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধি ভাতাভোগীদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ সরকারী উন্নয়নমূলক বরাদ্দের চাল, গম, টাকা নামে-বেনামে আত্মসাৎ করেন। ঈদুল ফিতরে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের ১০টন গম ও মৎস্যজীবীদের অনুকুলে বরাদ্দকৃত ১ টন চাল চেয়ারম্যান ভূয়া মাষ্টাররোলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া অর্থের বিনিময়ে ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারেশ কায়েম সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও নাবালিকাকে প্রাপ্তবয়স্ক বানানোর অভিযোগও রয়েছে আওয়ামী লীগ দলীয় এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষরকারী ১১ জন মেম্বর হচ্ছেন, দুলালী বেগম, সাবরীন জাহান, সেলিনা বেগম, শহিদুল ইসলাম মল্লিক, মোঃ দুলাল শেখ, রফিকুল ইসলাম খান, বাচ্চু শেখ, ইউসুফ কাজী, মহসীন খান, মোঃ হারুন অর রশিদ ও মান্নান হাওলাদার মিন্টু।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্চান মিয়া শামীম সাংবাদিকদের কাছে সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়ার আইনগত কোন অধিকার মেম্বরদের নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের গ্রুপিং এর কারনে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনাস্থাপত্র সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, পুটিখালী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সহকারে অনাস্থাপত্র পেয়েছি। আমি একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করবো। তিনি অভিযুক্তকে একটি নোটিশ দিবেন, যার জবাব ১০ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা জবাবে সন্তুষ্ট না হলে ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তকে নিয়ে সভা আহবান করে প্রকাশ্যে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। তার আলোকে তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। সেই আলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা প্রশাসকের মাাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে দিবেন। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রানালয় যে নির্দেশনা দিবেন সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial