পিরোজপুরে ফের সন্ত্রাসী হামলা
সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ আহত-৩ ॥ যুবলীগ নেতার উপর গুলি ও বোমা নিক্ষেপের অভিযোগ
রাজনৈতিক কোন্দল, পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে দুই দিনের ব্যবধানে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, বোমা নিক্ষেপ, বাড়িতে হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতিসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। এসময় ৪টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর পৌরসভার কুমারখালী, শহরের উকিলপাড়া ও সিআইপড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পিরোজপুর পৌরসভার রায়েরকাঠী পুলিশ লাইনস এর অদূরে কুমারখালী এলাকায় জেলা পুলিশ আনসার ও ভিডিপি অফিস সংলগ্ন সড়কে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও কুমারখালী এলাকার শাহা শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও পালপাড়া এলাকার সেলিম কাজীর ছেলে কাইয়ুম কাজী (২২) বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ সদস্য এবং ঝাটকাঠী এলাকার তপন চন্দ্র শীলের ছেলে ও কৃষ্ণ শীল (২৫) আহত হয়। আহতদের মধ্যে কাইয়ুম কাজী ও কৃষ্ণ শীলকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত কৃষ্ণ শীল জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী মোটর সাইকেল যোগে কুমারখালী এলাকা থেকে ফেরার পথে আনসার ও ভিডিপি অফিস সংলগ্ন সড়কে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু শিকদার, তার ছেলে এম শিকদার, আরমান সিকদার ও ওসমান সিকদারের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি দল পূর্ব পরিকল্পিভাবে তাদের উপর হামলা করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এসময় তাদের বহন করা ৪টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে হামলাকারীরা।
এদিকে, উক্ত হামলার জের ধরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের উকিলপাড়া এলাকায় পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহাবুব শুভকে তার বাসার সামনের রাস্তায় গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমা সাদৃশ দুটি বস্তু উদ্ধার করেছে। তবে গুলির বিষয়ে পুলিশ কোন সত্যতা পায়নি বলে জানান সদর থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বাদল।
অন্যদিকে রাত সোয়া ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীবের সিআইপাড়ায় বাসায় একদল দুর্বৃত্ত ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং বাসার ক্লপসিকল গেট ও গ্রিল ভাংচুরের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, নকীবের ছেলে বারী তালুকদার জয়েন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং রাজনৈতিক গ্রুপিং এর একটি অংশের সাথে জড়িত।
পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহাবুব শুভ অভিযোগ করে বলেন, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে বাসার সামনে অবস্থান করছিলেন। এসময় হঠাৎ করে দুটি মোটর সাইকেলে আসা হেলমেট পরা যুবকরা তাকে (শুভ) টার্গেট করে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল বের করে গুলি ছোড়ে। এসময় শুভ পাশের রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে প্রাণে রক্ষা পান। পরে নেতাকর্মীরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অন্য মোটর সাইকেলে থাকা যুবকরা তাদের লক্ষ্য করে পর পর দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। তবে বোমা দুটি বিস্ফোরিত হয়নি।
জেলা ব্যবসায়ী সমিতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব জানান, সোমবার রাত ১২টার কিছু পরে দুটি মোটর সাইকেলে ৫ জন যুবক এসে তার বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বাসার ক্লপসিকল গেট ও গ্রিল পিটিয়ে ও লাথি মেরে ভাঙ্গার চেষ্টা করে।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বাদল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ গিয়েছে। উকিলপাড়া থেকে বোমা সাদৃশ দুটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে গুলির কোন আলামত পাওয়া যায়নি। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে পিরোজপুরে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বিষয়ে পুলিশ কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। অপরাধের দৃষ্টিকোন থেকেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে পুলিশ এসব হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে বা জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারে নি। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ও মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে না পারায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কোন্দল, পূর্ব শত্রুতা, অটোস্ট্যান্ড নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র গত শুক্রবার দিনে ও রাতে তিন দফা সন্ত্রাসী হামলা, মারধর, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন গ্রুপের ৭ জন আহত হয়। ঐ ঘটনার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় ও রাতে আবারও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলো।
