পিরোজপুরে রাতেও সিও অফিস মোড় এলাকা সরগরম ॥ চলছে বাজারঘাট !
পিরোজপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমান রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন গ্রহণ করেছে নানা পদক্ষেপ। জনসাধারণকে সচেতন করা লক্ষে প্রচার প্রচারণা চালানোসহ সকলকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। আর এজন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মার্কেট, দোকানপাট, যানবাহন চলাচল। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
এসব সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা, ভ্রাম্যমান আদালত রাতদিন মাঠে ছুটে চলছেন জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে। কিন্ত তারপরে এক শ্রেণীর মানুষ এটা মেনে চলছেন না। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া অনেকই এখনও ঘরের বাইরে, শহরে, রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন। রাস্তায় চলছে রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক, মোটর সাইকেল।
অন্যদিকে, মুদি দোকান, বেকারী, ফলের দোকান, কাঁচা বাজার খোলা থাকার সুযোগে লোকজনও বাজারে হুমরি খেয়ে পড়ছেন। অনেকে বাজার করার নামে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। আর এসব দোকানপাট খোলা রাখার নির্দেশনা পেয়ে ব্যবসায়ীরাও গভীর রাত পর্যন্ত এসব দোকানপাট খোলা রেখে বেচা-কেনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে করোনা নিয়ে যেন কোন মাথাব্যাথা নেই।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পিরোজপুর শহরের সিও অফিস মোড়ে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভীড়। রাত ৯টার পরেও গিয়ে দেখা গেছে এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম। সিও অফিস মোড়ের রাস্তার পাশে সরকারী জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সান্ধ্য বাজারকে কেন্দ্র করে এখানে মানুষের ভীড় লেগেই রয়েছে। সড়ক বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা এ বাজারটি বিভিন্ন ভেঙ্গে ফেলা হলেও তা ধীরে ধীরে আবার আগের রূপে ফিরে আসে।
বৃহস্পতিবার রাতে মানুষের ভীড় দেখে সয়ং সদর উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মন্তব্য করেছেন- ‘সিও অফিস মোড়ে রাত ৯টায় সময়ও যত মানুষ আছে তা পিরোজপুর পুরো শহরেও নেই।’ তিনি অবশ্য এও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুদি দোকান ও কাঁচা বাজার খোলা রাখার কোন সময়সীমা নির্ধারণ করে না দেওয়ায় রাতের বেলাও এখানকার দোকানপাট, মাছ ও তরকারীর বাজার খোলা রয়েছে।
এদিকে, সচেতন মহল মনে করেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ দেয়া হলেও সারাদিন এবং রাতে মুদি দোকান, কাঁচা বাজার খোলা রাখার কোন প্রয়োজন নেই। কেননা ব্যাপক সময় ধরে এসব দোকানপাট খোলা থাকায় বাজারে লোক সমাগম লেগেই থাকে। তাদের মতে শুধুমাত্র ঔষুধের দোকান বাদে দুপুর দুইটার পরে থেকে এসব দোকানপাটও বন্ধ করে দেয়া উচিৎ। এছাড়া রাস্তায় রিক্সা, ইজিবাইকের মতো যানবাহনও চলাচল বন্ধ রাখা উচিৎ।
