নিম্নচাপের প্রভাবে পিরোজপুরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি॥ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা
সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পিরোজপুরে রবিবার দুপুর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। শহরের মানুষজনের চলাচলও কমে গেছে।
এদিকে, তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়ায় এবং ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আঘাত হানার আশংকায় পিরোজপুরে রবিবার দুপুরে জরুরীভাবে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. ইইসুফ হাসনাত জাকি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন, অতিরিক্ত জেরা প্রশাসক মাধবী রায়, জেলার ৭ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের প্রধানগণ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবেলায় এবং নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষে জেলার ২৬০টি সাইক্লোন সেল্টার এবং ১৬৯টি স্কুল কাম পাল্টিপারপাস সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এসব সাইক্লোন সেল্টারে প্রায় দুই রাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের খাবারের জন্য শুকনো খাবার, মোমবাতি, দিয়াশলাইসহ শিশু খাদ্য ও গবাদী পশুর খাদ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জেলার মঠবাড়িয়া উপজেরায় ১৭০০ সিপিবি সদস্যসহ প্রতিটি উপজেলায় রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রয়েছে।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা ও পরবর্তী করণীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. ইউসুফ হাসনাত জাকি জানান, জেলায় ৬৩টি মেডিকেল গঠন করা হয়েছে। তারা স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করবে।
এদিকে, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ইন্দুরকানী, ভান্ডারিয়া উপজেলার প্রায় ২২ কিলোমিটার ভেরিবাধ ঝুঁকিপূর্ন রয়েছে। এসব এলাকা দিয়ে জলোচ্ছ্বাসে পানি ঢুকে লোকালয় তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মাওলা মো. মেহেদী হাসান।
