বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষন : জেল হাজতে হোটেল ব্যবসায়ী মাহাবুব
শহরের নামীদামী দুইটি রেস্তোরা রোজগার্ডেন এবং হোটেল আব্বাসের মালিক কাজী মাহবুবুর রহমান ওরফে মাহাবুবের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারী ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় ব্যবসায়ী মাহাবুবকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।
পিরোজপুর সদর থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শহরের আদর্শপাড়ায় বসবাসরত শাকিল আহম্মেদের মেয়ে মেহনাজ আহম্মেদকে বিভিন্ন সময়ে ফোনে ঢেকে ভালবাসা ও বিয়ের কথা বলতো মাহবুব।
পারিবারিক সূত্রে মেহনাজের বাবার সাথে বন্ধুত্ব থাকায় মেহনাজের বাসায় যাতায়াত ছিল ব্যবসায়ী মাহাবুবের। এ সুযোগে বিভিন্ন সময়ে মেহনাজদের বাসায় এসে এবং তাকে রেস্তোরা রোজগার্ডেন এবং হোটেল আব্বাসে ফোনে ডেকে নিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে মাহাবুব। এরপর একাধিকবার হোটেল আব্বাসে নিয়ে তার গোপন কক্ষে রাত যাপন করে। এছাড়া নড়াইল ও বাগেরহাটের বিভিন্ন রিসোর্ট এ নিয়েও রাতযাপন করে এবং শারীরিক মেলামেশা করে। একপর্যায়ে মেহনাজ সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়ে। সন্তান সম্ভবা হওয়ার ঘটনা মেহনাজের বাবা-মা জানলে বেশ কয়েকবার শালিশ বৈঠক হয়। শালিশে সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও সন্তানের কথা অস্বীকার করে মাহবুব এবং মেহনাজকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে।
পরে মেহনাজ বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় ব্যবসায়ী মাহাবুব আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে মামলা করবার পর থেকে মেহনাজ ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে মাহবুবের আত্মীয় স্বজন।
মাহবুব শহরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হওয়ায় এবং এক ভাই উকিল হওয়ায় আইনী সহযোগিতা মিলছেনা বলে জানান মেহনাজ ও তার মা নাজমা আক্তার। এমনকি কোন উকিল তার পক্ষে যেন না দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থাও করে চলছে মাহাবুবেব পক্ষ থেকে।
এদিকে, একাধিক সূত্রে জানা গেছে, একসময়ে প্রবাসে থাকা মাহাবুব দেশে এসে চাইনিজ খাবারের হোটেল ব্যবসা শুরু করে। গড়ে তোলে রোজগার্ডেন এবং হোটেল আব্বাস নামে দুটি খাবার হোটেল। এ দুটি হোটেলের মধ্যেই রয়েছে মাহাবুবেব একটি করে নিজস্ব কক্ষ। আর এ নিজস্ব গোপন কক্ষে এর আগেও একাধিক মেয়েকে নিয়ে আমোদফুর্তি করতো মাহাবুব। তবে বিগত দিনে কেউ কোন অভিযোগ না করায় তিনি এ সকল ঘটনায় পার পেয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, ‘মালিকের কক্ষে অনেকেই মিটিং করে। এগুলো নিয়ে আমাদের তো নাক গলাবার কথা না।’
ভুক্তভোগী মেহনাজের দাবী এতো কিছুর পর মাহাবুব আদালতে নাকি বিয়ের জাল কাবিননামা দিয়েছে জামিনের জন্য। এটা তার কৌশল, আমি কোথাও সই স্বাক্ষর দেই নি। তাহলে বিয়ে হল কি করে?
মেহনাজ বলেন, ‘আমি চাই, মাহাবুব আমি ও আমার সন্তানকে স্বীকার করুক, আমায় শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করুক। আর তা না হলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ.জা.মো. মাসুদুজ্জামান জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষনের অভিযোগে হোটেল ব্যবসায়ী মাহাবুবেব বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামী মাহাবুব আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। মামলার তদন্ত চলছে।
