প্রধান সূচি

পিরোজপুরে ওএমএস’র চাল বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুরে ওএমএস’র চাল বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার কর্তৃক ওএমএস এর ৩০ টাকা কেজি চাল ও ১৮ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রি চলমান রয়েছে। বাজারে মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ও আটা ৩০ টাকা থাকায় ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে নিম্নআয়ের মানুষের ভিড় বেশী। কিন্তু ওএমএস এর দোকানগুলোর কিছু অসাধু ডিলারের অনিয়মের কারণে নিম্নআয়ের মানুষগুলো সরকারের স্বল্পমূল্যে বিক্রয়যোগ্য চাল ও আটা পাচ্ছেন না। ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র থেকে নামমাত্র চাল আটা বিক্রি করে বেশীরভাগ ওএমএস এর চাল ও আটা কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ওনেক ক্ষেত্রে ৫ কেজির চালের স্থলে পরিমাপে কম দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একজন ক্রেতাদের কাছ থেকে মাষ্টাররোল এ একের অধিক স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। অপরদিকে ডিলারের লোকজন নিজেরাও স্বাক্ষর করে মাষ্টার রোল তৈরী করে জমা দিচ্ছে। এভাবে একই হাতের লেখায় ক্রেতার নাম লেখা এবং স্বাক্ষর করা মাষ্টাররোল দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ক্রেতাদের সাথে কথা বললে জানা যায়, জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা দেয়ার কথা থাকলেও তারা সেটা পাচ্ছেন না।

ক্রেতা হিরু বলেন, ‘আমি শুধু চাল নিবো, তার জন্য আমার স্বাক্ষর দিতে হয় একটি কিন্তু বিক্রয় কেন্দ্র থেকে বলে আপনি আটা না নিলেও স্বাক্ষর দিতে হবে।’

ক্রেতা রিপন বলেন, ‘আমি এক নামে চাল নিবো কিন্তু আমাকে দুইটা নামে স্বাক্ষর দিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে একটি বিক্রয় কেন্দ্রে দেখা গেছে ৫ কেজি চাল এর পরিবর্তে ক্রেতারা পাচ্ছেন ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম চাল। ক্রেতা লাইজু বলেন, ‘আমি ৫ কেজি চালের টাকা দিলেও আমাকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম চাল দিছে।’

ক্রেতাদের কাছ থেকে একাধিক স্বাক্ষর রেখে তাদের নামের বরাদ্ধকৃত চাল ও আটা  বেশী দামে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা। এরকম নানা অভিযোগ রয়েছে পিরোজপুরের ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে।

এদিকে, ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে চাল, আটা বিক্রির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম জেলা শহরের কয়েকটি বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসময় তারা নানা অনিয়ম দেখতে পান এবং ক্রেতাদের অভিযোগ শোনেন।

জানা গেছে, পিরোজপুর পৌরসভাসহ পিরোজপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে চলমান ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্রগুলো পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি একেএমএ আউয়াল এর নির্দেশনায় তখন তারই কাছের লোকজনের মধ্যে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial