প্রধান সূচি

পিরোজপুরে দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ॥ পুলিশ কর্মকর্তাসহ আহত ১৮

পিরোজপুরে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ পরিদর্শক মো. সোবাহান হোসেন ও প্রতিদ্বন্দ্বি দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছে। শনিবার রাতে জেলার সদর উপজেলার কদমতলা বাজারে এ সংঘষেংর ঘটনা ঘটে।
কদমতলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হানিফ খান এবং প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো, সিহাব হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল এবং নাজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হানিফ খানের সমর্থকরা বোমা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিছে বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার আহত কর্মীরা দাবী করছেন। হামলায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে চাইলে তাদের বাঁধা দেওয়া হয়। পরে তারা পাশ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।
আহতরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হানিফ খান (৫০), তার সমর্থক মিজান শেখ (৩৮), মামুন খান (১৯), লিটন খান (৪০) তন্ময় গাজী (২০), তাজুল ইসলাম গাজী (২২) ।
প্রতিপক্ষ গ্রুপের আহতরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস প্রতীক) মো. সিহাব হোসেন (৬০), তার সমর্থক হাসান শেখ (২৮), হাফিজ শেখ (৩৫), সাঈদ শেখ (৩৭), ইয়াসিন মোল্লা (২৪), মো. আজমীর খান (২২), মো. য়িাজুল শিকদার (১৮), মো. ইমাম শেখ (২১), শেখ মো. ফারুক (৪০) মো. শহিদুল ইসলাম (৫৫), মুনান শেখ (৩০)।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী আহত মো. আজমির খান জানান, শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিহাব হোসেন কদমতলা বাজার জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়তে যান। তখন মসজিদের বাইরে আমরা কিছু লোক তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হানিফ খানের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন লোক আগ্নেয়াস্ত্রসহ দা, লোহার রড নিয়ে আমাদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এসময় আমরা চিকিৎসা নিতে জেলা হাসপাতালে যেতে চাইলে হামলাকারীরা আমাদের পথ আটকে বাধা দেয়। তাই নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হানিফ খান হামলায় তার সম্পৃক্ততা কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি রাতে কদমতলা বাজারের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কর্মীদের নিয়ে কথা বলছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিহাব হোসেনের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী দল এসে আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ আমার ৮ কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর থানার ওসি আ.জ.ম মাসুদুজ্জামান মিলু জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপে থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সোবাহান হোসেনসহ এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষই তানায কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial