করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরী করে এগুতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশে সফলতার সাথে করোনা মোকাবেলা করে যাচ্ছি। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা মতে আসন্ন শীত মৌসুমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে। মহামারির এই দ্বিতীয় ঢেউকে আমাদের সফলভাবে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এই জন্য এখনই একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার।
আজ রবিবার বিকেলে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনরূপ প্রাক ধারণা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া তথা অপ্রস্তুত অবস্থায় এ মহামারির ব্যাপকতাকে আমরা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি ঠিকই, কিন্তু শীতকালীন করোনা ঠেকাতে আমাদের এখন থেকেই সকল ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, করোনা হাসপাতাল, প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিভাগের মহা পরিচালকের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়ে আগাম প্রস্তুতিমূলক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। হাইড্রো অক্সিজেনসহ জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামাদি অচিরেই সংগ্রহ করে সকল হাসপাতালে রাখতে হবে। এই জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. হাসনাত ইউসুফ জাকি, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস, প্রেসক্লাব সভাপতি মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী, নারী নেত্রী কাজী রুহিয়া বেগম হাসি, এনজিও প্রতিনিধি জিয়াউল হাসান, বিএমএ’র জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

পরে মন্ত্রী অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সরকারী অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রথম শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ভাতা তিনি এখন ১২ হাজার টাকায় উন্নিত করেছেন। প্রতি বছর ২টি ঈদ বোনাস দেয়া হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের। এছাড়া বৈশাখী ভাতা, বিজয় ভাতাও পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
পিরোজপুর সদর উপজেলার ১৫ জন অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন মন্ত্রী।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাসনাত ইউসুফ জাকী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহনেওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধা গৌতম চৌধুরী ও এম এ রব্বানী ফিরোজ।

এ দিন সকালে মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বলেন পিরোজপুর জেলায় গত দেড় বছরের অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এ সব উন্নয়ন কাজের মানগত নিশ্চয়তা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে আমরা দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
মন্ত্রী আজ বিকেলে বলেশ^র খেয়াঘাট-হুলারহাট জেলা সড়কের ধুপপাশা এবং ফায়ার বিগ্রেড সংলগ্ন সড়কে একটি ১০ মিটার ও অন্যটি ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুইটি ব্রীজ এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এ দুইটি ব্রীজ নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। চলতি অর্থ বছরেই সড়ক বিভাগ এ সেতু দুইটির কাজ শেষ করবে। এ সেতু দুইটি নির্মিত হলে যশোর-খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আরও সহজ হবে এবং এলাকার মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে।
বিকেলে মন্ত্রী পিরোজপুরের প্রবীণ চিকিৎসক অসুস্থ ডা. হাবিবুর রহমানকে দেখতে জেলা হাসপাতালে যান এবং তার স্বাস্থ্যের খোজ খবর নেন ও আশু রোগমুক্তি কামনা করেন।
