দুদকের মামলায় আরও এক মাসের জামিন পেলেন সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রী
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়ের করা মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের পুনরায় এক মাসের জামিন দিয়েছে জজ আদালত।
সোমবার পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহম্মদ মহিদুজ্জামান তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বলে জানান আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাষ।
আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস জানান, দুদকের দায়েরকৃত তিনটি মামলায় গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পান এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে করা দুদকের আবেদন খারিজ করে তাদের জামিন আদেশ বহাল রেখে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে গত ৩ মার্চ তারা পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ও জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান জামিন নামঞ্জুর করেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আউয়াল সমর্থকেরা। জেলা আইনজীবী সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এ ঘটনার ৪ ঘন্টার মধ্যে বিচারককে বদলি করা হয়। পরে এ দিন বিকেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন বিচারকের আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক নাহিদ নাসরিন তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
করোনা ভাইরাসের কারণে আসামীদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় এ মামলার আসামীরা সোমবার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে উপস্থিত হলে আদালতের বিচারক তাদের এক মাসের আন্তবর্তিকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
দুদকের আইনজীবী এডভোকেট মুনসুর উদ্দিন হাওলাদার জানান, দুদকের মামলায় আসামীদের জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাই তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে কোন কথা কোন কথা বলবেন না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ উপজেলা) আসনের সাবেক এমপি এবং পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল এবং তার স্ত্রী পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভিনের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ৩টি মামলা দায়ের করে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর।
