প্রধান সূচি

গবাদিপশুর ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যসত্ত্বলোভী, অযৌক্তিক ও বেআইনি জুলুমের হাত থেকে বাঁচাতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গবাদিপশুর ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যসত্ত্বলোভী, অযৌক্তিক ও বেআইনি জুলুমের হাত থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়স্থ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তর কক্ষে অনলাইনে গবাদিপশু কেনা-বেচা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে পরিবহণ সংক্রান্ত এক অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ আবদুল জব্বার শিকদার, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকারসহ সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালকগণ সভায় অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, “গবাদিপশুর পরিবহণে কোনভাবেই যেনো চাঁদাবাজি না হয়। সিন্ডিকেট করে ট্রাক আটকানো বন্ধ করতে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। খামারি ও গবাদিপশু বিক্রেতারা যেনো কোনভাবেই হয়রানির শিকার না হয়। যারা হাটের বাইরে পশু বিক্রি করবে তাদের কাছে যেনো কেউ টোল বা হাসিল তুলতে না যায়। এ বিষয়গুলোতে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।”

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “গবাদিপশুর ক্রয়-বিক্রয় যতটা সম্ভব অনলাইন প্লাটফর্মে করতে হবে। এ বিষয়টি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। অনলাইনে গবাদিপশুর মূল্য নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোকে সহায়তা করবে। ইতোমধ্যে তারা প্রান্তিক খামারিদের উৎসাহিত করছে। ট্রাকের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে স্বল্প খরচে রেলওয়ের মাধ্যমেও গবাদিপশু পরিবহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলো ট্রেনের রুট ও সিডিউল ঠিক করে দেবে।”

পরিবেশ দূষণের আতঙ্ক যেনো কোরবানিকে ঘিরে না হয় এবং পশুর চামড়া এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি যাতে না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারদের তাদের আওতাধীন জেলা, উপজেলা, পৌর এলাকা ও গ্রামের হাট-বাজারের বিষয়ে যত্নবান হবার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

প্রতিটি জেলা প্রশাসন মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে অনলাইনে কোরবানির গবাদিপশু কেনা-বেচার উদ্যোগ নিয়েছে বলে স্ব স্ব বিভাগীয় কমিশনারগণ সভায় জানান। ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিভাগের অন্তত ৩০ শতাংশ গবাদিপশু কেনা-বেচা করার প্রচেষ্টা থাকবে বলেও কমিশনারগণ সভায় আস্বস্ত করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলেও তারা সভায় অভিমত দেন।

এর আগে ‍বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়স্থ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তর কক্ষে কোরবানির পশুর হাটে সুস্থ-সবল গবাদিপশু সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “আসন্ন ঈদুল আযহায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পর্যাপ্ত গবাদিপশু সরবরাহ ও বিপণনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কোরবানি করে পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন হতে হবে, নিজের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা দিয়ে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও সরবরাহে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “আমাদের প্রতিবছর কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা হয়। কোরবানির পশু পরিবহণে রাস্তায় চাঁদাবাজি হয়, দীর্ঘসময় প্রাণীকে ট্রাকে আটকে রাখতে হয়। এবার আমরা চাই কোনরকম চাঁদাবাজি হবে না। যে অঞ্চলে সুযোগ আছে সেখান থেকে ট্রেনে পরিহণ হবে। খামারিদের খামারে পশু বিক্রয় হলে সেখান থেকে ইজারাদার টোল আদায় করতে পারবে না।”

প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী আরো বলেন, “এবছরও দেশে কোরবানির জন্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ বছর ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য মজুদ রয়েছে। যার মধ্যে হৃষ্টপুষ্টকৃত গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লক্ষ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ও অন্যান্য ৪ হাজার ৫০০টিকোরবানির জন্য কোন অবস্থাতেই বিদেশ থেকে গবাদিপশু আনার অনুমতি দেয়া হবে না। করোনার কারণে গবাদিপশু বিপণনে এবছর আমরা অনলাইন বাজারের উপর জোর দেয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরো বলেন, “গবাদিপশু বিপণন ও পরিবহণ সমস্যা সমাধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে হটলাইন স্থাপন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক হটলানে সম্পৃক্ত হবেন। গবাদিপশুর বাজারগুলোতে প্রায় ১২০০ মেডিকেল টিম কাজ করবে, যাতে রুগ্ন গবাদিপশু বাজারে না আসতে পারে। একইসাথে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কোরবানির সময়ে খামারিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সহায়তা করার জন্য মাঠ পর্যায়ের সকল প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এসময় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। কোনভাবেই যেনো একজন খামারি, বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন মন্ত্রী। এ সময় কোরবানি সংশ্লিষ্ট সরকারের সকল বিভাগকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানেরও অনুরোধ জানান তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ আবদুল জব্বার শিকদার, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালকগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বিজিবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা ও খামারীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি অনলাইনে সভায় অংশগ্রহণ করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial