প্রধান সূচি

পিরোজপুরে গভীর রাতে মসজিদের মাইকে আজান ॥ আতঙ্কিত মানুষ

নামাজের কোন ওয়াক্তের সময় নয়। তবুও বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকে গভীর রাতে ভেসে আসছে আজানের ধ্বনি। আর ভোর হয়েছে ভেবে অনেকেই গভীর ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তবে ঘুম ভাঙার পর দেখেন ঘড়িতে তখন রাত ১টার বেশি নয়। এভাবে মধ্যরাতে হঠাৎ করে আজানের ধ্বনি শুনে পিরোজপুরে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে পিরোজপুর জেলাশহরসহ বিভিন্ন উপজেলার মসজিদের মাইক একের পর এক আজান দেওয়া হয়। তবে অনেক লোকেরই ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকায়, তারা ফোন করেন পরিচিতজনকে।
তবে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত করা এবং ইসলাম সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্যই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে আজান দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে পিরোজপুর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মুফতি মো. নূরুল্লাহ বলেন, কোন বিপদ কিংবা দুর্যোগ আসলে বেশি করে ইবাদাত করার নির্দেশ রয়েছে কোরআন ও হাদিস শরীফে। তবে গভীর রাতে একযোগে মসজিদে আজান দেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নাই। এমনকি আমি এরকম কোন নির্দেশনা কোরআন হাদিসে পাইনি। তবে বড় ধরণের কোন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে অনেক লোকের প্রয়োজন হলে, মানুষ জড়ো করার জন্য আজানের নিয়ম রয়েছে।
আজান দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ প্রশাসনও জেনেছে বলে জানান, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান। বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে আজান দেওয়ার ঘটনার পর পিরোজপুরের মসজিদগুলোতে কোন জমায়েত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন বিষয়টি চট্টগ্রাম এবং সাতক্ষীরা থেকে মোবাইলের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আজানের পর দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের জন্য অনেকেই তাদের পরিচিতজনকে ফোন করেছেন। তবে বিষয়টি প্রথমে কোথা থেকে ছড়িয়েছে এ বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial