বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলতে কোন পরিচয় থাকতে পারেনা, পরিচয় একটাই আমারা সবাই বাঙ্গালী … গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তির জন্য, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা মহামানবী হিসেবে আমাদের মাঝে শেখ হাসিনাকে পাঠিয়েছেন। শেখ হাসিনা একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ। তার আমলে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু, সংখ্যা গুরু বলতে কোন পরিচয় থাকতে পারেনা। পরিচয় একটাই আমারা সবাই বাঙ্গালী। এই বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃষ্টান আমরা যে সম্প্রদায়ের লোকই হই না, আমাদের সকলকে মিলে মিশে আমাদের দেশটিকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ পিরোজপুর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকার অসম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, এমন কোন কাজ না করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে না থাকলে মানবতা বিপন্ন হয়ে যাবে। জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। কিন্তু এই বাংলায় জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিকে ছাড় দেয়া হবেনা।
মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার আছে বিধায় সনাতন ধর্মলম্বীদের অনেকেই আজ সচিব, পুলিশের বড় কর্মকর্তা, প্রশাসনের উচ্চ থেকে নিম্ন পর্যায়ের বিভিন্ন পদে অধিষ্ট আছেন। এদেশ সবার, সবার সমান অধিকার এখানে। আপনার অধিকার আপনাকেই আদায় করে নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ সবাই মিলে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। তাই সনাতন ধর্মালম্বীসহ অন্য ধর্মের মানুষ এদেশে সংখ্যালঘু হতে পারে না। সংখ্যালঘু তারাই যারা সে সময় পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছে। হিন্দু-মুসলমানদের নির্বিশেষে হত্যা করেছে। সেই রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত ইসলামীরা হচ্ছে সংখ্যালঘু। আর আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ীরা সংখ্যাগুরু।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে এ দেশ ছেড়ে কাউকেই অন্য দেশে চলে যেতে হবে না। তবে মাঝে মাঝে যারা দুর্বৃত্তায়ন করে তাদের কোন জাত নেই। তাদের জাত একটিই তারা দুর্বৃত্ত। তাই এসব দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মেরুদন্ড সোজা করে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে এদেশ থেকে নির্মূল করতে হবে।
সম্মেলনে সম্মানিত হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শেখ এ্যানী রহমান এবং সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত।
পিরোজপুর জেলা পুঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল মন্ডলের সভাপতিত্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, পুঁজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তাপস কুন্ডু, শ্যামল কুমার রায়, রবীন্দ্রনাথ বসু জাতীয় কমিটির সদস্য ডা. তপন কুমার বসু, নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার, জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সুনীল চক্রবর্তী, জেলা সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদার প্রমুখ।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিমল মন্ডলকে সভাপতি এবং গোপাল বসুকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী দুই বছরের জন্য পিরোজপুর জেলা পূঁজা উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়।
