প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন
পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭৪নং মধ্য নামাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানমের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অপকর্মের প্রতিবাদ ও বিচার দাবী করে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবী করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে জানান, ৭৪নং মধ্য নামাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিশু শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেণীতে মোট ১০১ জন শিক্ষার্থী লেখা পড়া করে। কিন্তু এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানম বিদ্যালয়টিকে নিজের ইচ্ছা মতো চালিয়ে লেখাপড়ার মান খারাপ করে দিচ্ছে। নার্গিস খানম বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হয় না এবং তেমন কোন ক্লাসও নেয় না। এ বিষয়ে অভিভাবকরা জানতে চাইলে শিক্ষার্থীদের সামেনই অভিভাবকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর ও অকথ্যভাষায় ব্যবহার করে থাকেন। এ সসব কারণে এই প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এক সাথে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ের যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে।
অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোর করে স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার ও পানির টেংকি পরিষ্কার করিয়ে থাকে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পরে। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর, অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানমের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ ও বিচার দাবী করেন।
মানববন্ধনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সেলিম শেখ, অভিভাবক সাইফুল ইসলাম লাভলু, সেন্টু সেখ, খাদিজা বেগম, জাহানারা বেগমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সেলিম শেখ জানান, প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানম ম্যানিজিং কমিটির কোন সিদ্ধান্তই মেনে চলেন না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে তার স্বামী নাজিরপুর উপজেলার শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা। তাই তিনি কাউকেই ভয় করেন না। নিজের ইচ্ছা মতো বিদ্যালয়ে আসেন আর বিদ্যালয়ে থেকে চলে যান। এছাড়া প্রায়ই তিনি বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নার্গিস খানম জানান, তার বিরুদ্ধে সে সব অভিযোগে করা হয়েছে তা সবই মিথ্যা, বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্রমূলক। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক শক্রতার কারণেই শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ কাজ করিয়েছে। তারা মানববন্ধনের নামে কমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাশ থেকে জোর করে বাইরে নিয়ে গেছে। এলাকার স্বার্থন্বেসী একটি চক্র স্কুলের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত করছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
