পিরোজপুরে গরু চোর নিহত
পিরোজপুরে গরু চোর সন্দেহে পিটিয়ে ও কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৩ টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমিরমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. জামাল হোসেন হাওলাদার (৪৫)। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলা শারিকতলা-ডুমুরিতলা ইউনিয়নের কুমরিমারা আশ্রায়ণ প্রকল্প এলাকার মৃত হাতেম আলী হাওলাদারের ছেলে। নিহত জামালের বিরুদ্ধে পিরোজপুরসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, খুনসহ ৭টি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে চোরাই গরু ট্রলারে (ইঞ্জিন চালিত নৌকা) করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলার শিকার হন জামাল। রাত ৩ টার দিকে পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় ট্রলার থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। বুধবার সকাল ৭ টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামালের মৃত্যু হয়। এদিকে, জামালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পারিবারের।
পিরোজপুর সদর থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাতে ২ টার দিকে তারা খবর পান যে, হুলারহাটের কঁচা নদী থেকে ট্রলারে করে কেউ গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এমন খবর পাওয়ার পরে তারা খোঁজ নেয়া শুরু করলে রাত ৩ টার দিকে পিরোজপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নজরুল ইসলাম তাদের খবর দেন যে, হুলারহাট বন্দর এলাকার খালে একটি ট্রলারে ৪টি গরুসহ জামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় পরে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রলার থেকে জামালকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করে। এ সময় ট্রলারে থাকা ৪টি গরু জব্দ করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে জামালের মৃত্যু হয়।
এদিকে, নিহতের ছোট ভাই কামাল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে কুমিরমারা এলাকার মজিবর শেখ। এসময় তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মজিবর শেখ, ফরিদ হাওলাদার ও ফোরকান হাওলাদার জামালকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. জিয়াউল হক জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে কঁচা নদীতে একটি ট্রলার থেকে পুলিশ আহত অবস্থায় জামাল নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। পরে বুধবার সকারে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত জামালের নামে পিরোজপুরসহ বিভিন্ন থানায় চুরি ও খুনসহ ৭টি মামলা রয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
