বাঁধা দেয়ার মামলায় ফাঁসানোর হুমকি
শরণখোলায় খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ
বাগেরহাটের শরণখোলায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলণের ফলে এক কৃষকের বসতবাড়ি হুমকির মূখে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই কৃষক প্রতিবাদ করায় তাকে চুরি মামলায় ফাঁসানোর হুমকী দেয়া হয়েছে। উপজেলার পশ্চিম বানিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সোহরাব শিকদার (৬০) এমন অভিযোগ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তদারকিতে ২০১৫ সালে (সি.সি.আর.আই.পি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৬৫২ মিটার নলবুনিয়া বানিয়াখালী সড়ক ও পশ্চিম বানিয়াখালী খালে ১৮ মিটারের একটি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু করেন মেসার্স কেবি এন্ড এফটি নামের খুলনার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালে ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও তা চলমান থাকায় স্থানীয় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।
অপরদিকে, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাটের পরিবর্তে স্থানীয় খাল বিল থেকে বালু উত্তোলণ করে রাস্তা ভরাট করছেন। এ সুযোগে উপজেলার উত্তর বাদাল গ্রামের বাসিন্দা অবৈধ বালু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ওই রাস্তায় সম্প্রতি বালু সরবরাহের কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬/৭ দিন ধরে সোহরাব শিকদারের বসতবাড়ির পিছনের খালসহ পশ্চিম বানিয়াখালী এলাকার বিভিন্ন খালে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলণের ফলে ওই গ্রামের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোহরাব শিকদারসহ এলাকাবসীর অনেকে বলেন, ড্রেজার ব্যবসায়ী দেলোয়ারকে বালু তুলতে বাঁধা দিলে ঠিকাদারের লোকজনের সাথে একত্রিত হয়ে প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী চুরি মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে বালু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতিক্রমে তিনি বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলণের কার্যক্রম চালান। এজন্য অফিসে মাশহোয়ারা দেন। তবে সোহরাব শিকদারের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে অভিযোগ করার মত কিছু ঘটেনি এবং মামলায় ফাঁসানোর ভয়-ভীতি দেখানোর বিষয়টি গুজব।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আশিষ কুমার দাস বলেন, ওই সড়কটি মাটি দিয়ে ভরাট করার নিয়ম কিন্তু ওই এলাকায় মাটির সংকটসহ চড়া মুল্যের কারণে রাস্তাটিতে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, কোন ড্রেজার মালিককে বালু উত্তোলণের জন্য অনুমতি দেয়া হয়নি। এছাড়া খাল-বিল থেকে বালু উঠানোর নিয়ম নেই। শীঘ্রই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
