প্রধান সূচি

বাগেরহাটে কল্যাণ তহবিলের নামে পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি

বাগেরহাটে ঈদকে সামনে রেখে ও কল্যাণ তহবিলের নামে পণ্যবাহী ট্রাকে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। এর ফলে স্থানীয় ট্রাক মালিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। তবে সড়কে ট্রাক থেকে চাঁদা তোলা শ্রমিক সংগঠনের দাবি এটি চাঁদাবাজি নয়, তারা শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য টাকা তুলছেন। অন্যদিকে ট্রাক মালিকদের দাবী শ্রমিকদের কল্যাণে নেয়া এ চাঁদার বড় একটা অংশ যাচ্ছে শ্রমিক নেতাদের পকেটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট-মোংলা মহাসড়কের দ্বিগরাজ এলাকায় পৌরসভার ইজারাকৃত ট্রাকস্ট্যান্ডের বাইরে শ্রমিক সংগঠনের নামে চলছে চাঁদা আদায় এর কাজ। মোংলা পোর্ট পৌরসভার ইজারাকৃত ট্রাকস্ট্যান্ডের মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে দুই দফায় টাকা দিতে হয়। যার কারণে বেড়ে যাচ্ছে পণ্য পরিবহণ খরচ। পৌরসভা ও শ্রমিক সংগঠণের নামে রশিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী কারোই কোন মূল্য তালিকা নেই। ফলে ইচ্ছেমত ট্রাকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা ট্রাকচালক ও সহকারীরা দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলাতে এসে পড়ছেন বিপাকে।

এই বিষয়ে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএ খালেক বলেন, আমরা ট্রাক মালিকরা এক প্রকার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। রাস্তায় বের হলে যে পরিমান চাঁদা দিতে হয় তাতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ট্রাক রাস্তায় নামাতে আর ইচ্ছা করেনা। আমাদের এই অঞ্চলের ট্রাক ভাড়া বেশীর ভাগ মোংলা বন্দর কেন্দ্রীক। সেখানে দি¦গরাজ এলাকায় পাশাপাশি দুটি টোল। একটি মোংলা পৌরসভার ট্রাক স্ট্যান্ড এবং আর একটি খুলনা বিভাগীয় .ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের দুটি টোলই পন্য পরিবহনে ভাড়ার সাথে জড়িত। এখানে টোল কম দেবেন তার ও কোন সুযোগ নেই। চাঁদা বা কথিত এ টোলের টাকার একটা অংশ যাচ্ছে বাগেরহাট, খুলনা ও বরিশালের নেতাদের পকেটে।

বাগেরহাট জেলা ট্রাক, কাভার ভ্যান, ট্যাংক ও লরী মালিক সমিতির কার্যকরি সভাপতি কাজী আবুল হাসান বলেন, ‘ভাই ট্রাকে এখন আর ব্যবসা নেই। কয়েকটি ট্রাক আমি বেছে দিছি। আর এহন যা আছে তা এ চাঁদা ও চাঁদা দিতে দিতে আর তলায় থাহেনা। চালাতাম একটু মোংলায় হে আনে এক যায়গায় দুই চাঁদা, কই যাবেন সবতো আমাগো নেতারাই।’

এ বিষয়ে মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র মো. জুলফিকার আলী বলেন, পৌরসভার একটি টোল আছে যেটি ইজারা দেয়া হয়েছে। সরকারি যে মূল্য আছে তার থেকে বেশী ডাক উঠায় আমরা ইজারা দিয়ে দিয়েছি। এর বাইরে কোন টোল আদায় হয় কিনা তা আমার জানা নেই।

খুলনা বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বস্ক দুদু বলেন, এটাকে চাঁদা বললে আমি মানবো না। মোংলার দ্বিগরাজে আমাদের ৮০ জন শ্রমিক রাতÑদিন মিলে ট্রাকগুলো রক্ষনাবেক্ষন করে তাদের একটা মাসিক বেতন আছে। এর বাইরে সামান্য টাকা থাকে যা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।

খুলনা বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী সরোয়ার হোসেন বলেন, দ্বিগরাজে কোন চাঁদাবাজি হয় না। বিভিন্ন সময় দূর্ঘটনায় ট্রাকের চালক বা শ্রমিকরা মারা গেলে মালিক পক্ষের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা পয়সা দেয়া হয়। যা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ওই পরিবারটির কিছুই হয় না। এ কারণে ট্রাকের চালক ও শ্রমিকদের কল্যাণে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। যার অনুকুলে গাড়ী প্রতি ৫০ ও ১০০ টাকা করে রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। আর এ টাকা দিয়ে দূর্ঘটনায় নিহত পরিবারকে এককালীন ৫০ হাজার টাকাসহ তাদের পরিবারের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও বিয়ে শাদীতে সহযোগিতা করা হয়। এছাড়া আহত ট্রাকের চালকসহ শ্রমিকদের চিকিৎসাসহ পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে সহয়তা করা হয়। যেটাকে চাঁদাবাজি বলা যায় না।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial