পিরোজপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি
পিরোজপুরে হঠাৎ করে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচন্ড গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে নানা বয়সের শিশু ও নারী-পুরুষ ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ফলে জেলা হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা। আর ধারণ ক্ষমতার অধিক রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। হাসপাতালের মেঝে এবং ওয়ার্ডের বাইরে হাসপাতালের আবাসিক ভবনে রাখা হচ্ছে অতিরিক্ত ডায়রিয়া রোগীদের। 
সিভিল সার্জন ডা. মো. ফারুক আলম জানান, চলতি এপ্রিল মাসে পিরোজপুর জেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত ১ হাজার ৬৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার এক দিনেই জেলায় ৯৭ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। তিনি জানান, জেলার সদর ও ভান্ডারিয়া উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশী। ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত পিরোজপুর সদর উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হচ্ছেন ৬৩১ জন, ভান্ডারিয়ায় ৫৪৬ জন, স্বরূপকাঠীতে ২৬৮ জন, নাজিরপুরে ১০০ জন, মঠবাড়িয়ায় ১৫০ জন ও কাউখালীতে ৮৮ জন।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ননী গোপাল রায় জানান, ডায়রিয়া রোগীর সংখা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। ধারণ ক্ষমতার অধিক রোগী ভর্তি হওয়ায় এক বেডে দুইজন কিংবা মেঝেতে রেখে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডায়রিয়ার রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাসিক ভবনে খোলা হয়েছে আলাদা ওয়ার্ড।
সদর হাসপাতালের সেবিকা করুনা বালা জানান, হঠাৎ করে ডায়রিয়া রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
জেলা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মৃনাল কান্তি মন্ডল জানান, হাসপাতালে বেডের সংখ্যা কম হলেও কিছু বেড বাড়ানো হয়েছে। তারপরও কিছু রোগীর জন্য মেঝেতে বিছানা পেতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। তবে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে।
