জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের
নাজিরপুরে প্রতিপক্ষের বাড়ীঘর ভাংচুর ॥ লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
নাজিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ভিটা মাটি থেকে উচ্ছেদ করার মাধ্যমে তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবর দখল করতে তিনটি বসতঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার রাত ২ টার দিকে উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পূর্ব যুগিয়া গ্রামে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় তহমিনা বেগম, বদিউজ্জামান ও ঠান্ডা শেখ নামে ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মাদ শেখ জানান, তার পৈতৃক সম্পত্তি জবর দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে একই এলাকার প্রতিবেশী প্রভাবশালী আনোয়ার হাওলাদারসহ তার লোকজন। এ নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ একাধিকবার গ্রাম্য শালিশ করলেও ঘটনার কোন প্রকার সমাধান আসেনি। তাদের বসত বাড়িতে মোট ৫ একর ৮৫ শতাংশ জমি রয়েছে। তার মধ্যে ৩ একর ৩৫ শতাংশ নিয়ে আনোয়ার হাওলাদারের সাথে আদালতে মামলাও চলছে।
রবিবার দিবাগত রাত অনুমান ২ টার দিকে হঠাৎ তার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এ সময় হামলাকারীরা ওই বাড়ীতে থাকা নুর মোহাম্মদ শেখসহ তার ভাইয়ের ছেলে বদিউজ্জামান ও ঠান্ডা শেখের ঘরের বেড়া ভাংচুর করে ঘরে ঢুকে মালামাল ভাংচুর ও ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা, ৬ মন সুপারিসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয়। এ সময় ঘরে থাকা ওই সম্পত্তির দলিলসহ মূল্যবান কাগজপত্র বের করে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা ওই রাতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার যোগে আসে এবং ওই ট্রলারে করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
প্রথমে হামলাকারীদের ডাকাত সন্দেহ হলে জীবন রক্ষার্থে তারা ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে সৌর বিদ্যুতের আলোতে হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় মৃত আকুব্বর শেখের ছেলে সেরজাহান শেখ ও হেদায়েত শেখসহ আনোয়ার হাওলাদারের পুত্র মনির হাওলাদারসহ ১০-১২ জনকে চিনতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেরজাহান ও হেদায়েত শেখের ভাই এনায়েত শেখ মুঠোফোনে বলেন, আমাদের সাথে নুর মোহাম্মদ শেখে জমি নিয়ে কোন বিরোধ নেই এবং আমার ভাইয়েরাও এ ঘটনায় জড়িত নয়। আমার মামা আনোয়ার হাওলাদারের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বাড়ীঘর করেছে নুর মোহাম্মদ শেখ। সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য আমার মামা আনোয়ার হাওলাদার ও তার ছেলে মনির তাদের লোকজন নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কথা হলে মাটিভাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খান মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সংবাদ পেয়ে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে নুর মোহাম্মাদ কর্তৃক থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
