প্রধান সূচি

পিরোজপুর-১ আসন

সাঈদী পুত্রকে ছাড় দিতে নারাজ নাজিরপুর বিএনপি

পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-স্বরূপকাঠী) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে যুদ্ধাপরাধী মামলায় আমরণ কারাদন্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’র পুত্র শামিম সাঈদীকে মেনে নিতে নারাজ নাজিরপুর উপজেলা বিএনপি। সোমবার উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তাদের বক্তব্যে এ কথা বলেন।

উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ কর্মী সভা দুপুর আড়াইটায় শেষ হয়। অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিএনপিসহ সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকসহ সুপার ফাইভদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কর্মী সভায় অংশ নেয়া একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

কর্মী সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি-সম্পাদকসহ সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, সাঈদী পুত্র শামীম সাঈদীকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমাদের নিশ্চিত ভরাডুবি হবে। কেননা এখানে তার কোন ভোট নাই। তাছাড়া তার বাড়ি জেলার ইন্দুরকানি উপজেলায় যা পিরোজপুর-২ নির্বাচনী এলাকায়। এছাড়া এখানে প্রশাসনের চাপের মুখে মাঠে কাজ করতে পারবে না দলের নেতা-কর্মীরা। তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী রয়েছেন। সমালোচনার উর্ধ্বে থাকা প্রার্থী হলে আমাদের জন্য ভালো হয়। সাঈদীর ছেলে রাজাকার পুত্র হিসেবে সমলোচিত হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে আমাদের সমস্যা হবে। এ কথা আমরা রেজুলেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রেও অবহিত করেছি।

উপজেলা বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সাঈদীর বাড়ি পিরোজপুর-২ আসনে ও জেলার ইন্দুরকানী উপজেলায়। তাই সেখানে তাদের নিজস্ব ভোট ব্যাংক থাকা সত্ত্বেও তারা সেখানে মহাজোট প্রার্থীর কাছ থেকে বড় অংকে টাকা নিয়ে এ আসনের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছে। আমি তার পক্ষে কাজ করতে রাজি না। এছাড়া ওই সভায় সাঈদী পুত্রকে জোটের প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলে দলীয় কাজ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন মোল্লা, দীর্ঘা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল কবির, মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হাসান রুনু, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. হাফিজুর রহমান লায়েক প্রমুখ।

তবে তাদের বক্তেব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ও দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি’র কনিষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম লাহেল মাহমুদ, সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. আছাদুজ্জামান শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. মহর আলী মৃধা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজেদুল কবির রাসেল, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা বিএনপি’র কনিষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা এইচ এম লাহেল মাহমুদ জানান, যেহেতু আসন্ন নির্বাচনটি দেশমাতা খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন তাই কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করাই দলের একজন ঈমানদার কর্মীর কাজ বলে আমি মনে করি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial