প্রধান সূচি

কন্ঠ রিপোর্ট :

হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ  

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক আবুল কালাম মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রচারপত্র বিলি করেছেন ভুক্তভোগীরা। কিছুদিন ধরে প্রেসক্লাবসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযোগের প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। বিলি করা প্রচারপত্রে হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ সিভিল সার্জন ডা. ফারুক আলমসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও ভুক্তভোগীরা  কোন প্রতিকার না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে, বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় এবং প্রচারপত্র বিলি হওয়ায় তদন্ত ও শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ভয়ে আবুল কালাম আকন স্বেচ্ছায় পিরোজপুর থেকে বদলীর জন্য ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আবুল কালাম মাতুব্বরকে পিরোজপুর সদর হাসপাতাল থেকে বদলী করে বরিশাল সদর হাসপাতালে নিয়োগ দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এ বদলী’র আদেশ পিরোজপুর সদর হাসপাতালে এসে পৌছেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, প্রচারপত্রের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ সালে আবুল কালাম মাতুব্বর পিরোজপুর সদর হাসপাতালের হিসাব রক্ষক হিসেবে যোগদান করে। এরপর থেকে সে নানা ধরণের দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরতে শুরু করে। সূত্র মতে, সিভিল সার্জন ডা. ফারুক আলম ও হিসাব রক্ষক কালামের বাড়ি একই জেলা পটুয়াখালীতে হওয়ায় সিভিল সার্জনের অবহেলায় কালাম এসব দুর্নীতিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার সুযোগ পায়। প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয় হাসপাতালের কর্মচারীদের যোগদান ও বদলির ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য তাকে দিতে হয় ঘুষ। নানা অজুহাত দেখিয়ে নার্সদের বেতন থেকে প্রতিমাসে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। শুধু তাইনা, হাসপাতালের কর্মচারীদের (তিন বছর পর ১৫ দিন ছুটি ও বেসিকের এক মাসের সমপরিমান টাকা) বিনোদনের ছুটি মঞ্জুর ও অর্থ ছাড় করাতে তাকে বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেকটাই দিয়ে দিতে হয়। এছাড়া হাসপাতালের উন্নয়নমূলক কাজ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে এবং রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ঠিকমত না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ করেছেন ওইসব নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কর্মচারিরা। হাসপাতালে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক নিয়োগকৃত কর্মচারীদের যৌন হয়রাণির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য তাকে দুইবার খেতে হয়েছে লাঠিপেটা। তার পরেও তার চরিত্রের কোন উন্নতি হয়নি বলে দাবী ভুক্তভোগীদের। সম্প্রতি ভুক্তভোগী কর্মচারীরা সিভিল সার্জনকে আলটিমেটাম দিয়েছেন কালাম মাতুব্বরকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে অন্যত্র বদলী করা না হলে তার দায় সিভিল সার্জনকেই নিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভেষজ বাগানের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৮২ হাজার টাকার কাজ না করে কালাম মাতুব্বর ওই টাকা নিজেই সব আত্মসাৎ করেছেন।

নাম প্রকাষে অনিচ্ছুক হাসপাতালের ৬ জন নার্স জানান, সদর হাসপাতালে ৭২ জন নার্স রয়েছে। এদের কাজের সময় নির্ধারণ করে কালাম। আর এজন্য তিনি নার্সদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। প্রচারপত্রে লেখা কালামের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক বলেও জানান নার্সরা। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির অপর এক কর্মচারী জানায়, আমার বিনোদনের টাকা থেকে কালাম মাতুব্বর ২ হাজার ৫শ’ টাকা কেটে রেখেছে।

তবে আবুল কালাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য নয়, কে বা কারা কেন আমার বিরুদ্ধে প্রচারপত্র বিলি করেছে তা বুঝতে পারছি না। তবে, কেন দুইবার মার খেলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. ফারুক আলম বলেন, কালাম মাতুব্বরের বিরুদ্ধে আমার কাছে কেউ লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। তবে হাসপাতালের কর্মচারীরা মৌখিকভাবে কিছু বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচারপত্র বিলি হওয়া এবং অভিযোগে বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে পিরোজপুর থেকে বরিশালে বদলী করেছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial