নাজিরপুরে ২০ দিন পর বৃদ্ধার লাশ উত্তোলন
পিরোজপুরের নাজিরপুরে শোভা রানী ঢালী (৬০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ ২০ দিন পর সমাধি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তার লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
লাশ উত্তোলনের সময় পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ননী গোপাল রায়, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাজিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে দুপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মহাদেব ঢালী, উত্তম ঢালী, জয়দেব ঢালী, শিলা ঢালী, সঞ্জয় ঢালী, ও শুধাংশু ঢালী মিলে নিহত শোভা ঢালীসহ তার প্রতিবন্ধি ছেলে বিধান ঢালী ও পুত্রবধূ সন্ধ্যা ঢালীকে মারধর করে। স্থানীয়রা ওই দিন বিকেলে আহত অবস্থায় শোভা ঢালী ও তার ছেলে বিধান ঢালীকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ওই দিনই বিধান ঢালীর স্ত্রী সন্ধ্যা ঢালী বাদী হয়ে ওই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে নাজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ১৯ জুন স্থানীয় ইউপি সদস্য সুদেব হালদার ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলে অসুস্থ শোভা ঢালীকে হাসপাতাল থেকে বাড়ী নিয়ে আসলে গত ২৬ জুন রাতে শোভা রানী ঢালী নিজ বাড়ীতে বিনাচিকিৎসায় মারা যান। এসময় প্রতিপক্ষরা ইউপি সদস্য সুদেব হালদারের সহায়তায় বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার জন্য অসহায় ওই পরিবারটিকে ভুল বুঝিয়ে থানা পুলিশকে না জানিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই তড়িগড়ি করে রাতেই মৃত শোভারানীর লাশ সমাহিত করে।
ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে এলে পুলিশ শোভা রানী ঢালীর পুত্রবধূ সন্ধ্যা রানী ঢালীকে বাদী করে একটি হত্যা মামলা রুজু করে। পরে আদালতের অনুমতিক্রমে গতকাল সোমবার নিহত শোভা রানীর লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, শোভা রানী ঢালীর মৃত্যুর পর পুলিশকে না জানিয়ে লাশ সমাহিত করা হয়েছিলো। পরে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হওয়ায় আদালতের অনুমতিক্রমে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে এবং মৃত্যুও সঠিক কারণ নির্নয়ের করতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
