পিরোজপুরে সরকারি কলেজের শিক্ষকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার
পিরোজুপর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালামের (৫৯) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
বুধবার দুপুরে পুলিশ পিরোজপুর পৌর শহরের রাজারহাটস্থ তার ভাড়াটে বাসা থেকে এ মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহটি বাসার রান্না ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত ছিল।
কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ শিক্ষকের বাড়ি বরগুনা জেলা শহরের কোরক এলাকায়। তার পিতার নাম আইন উদ্দিন হাওলাদার। তিনি পিরোজপুরে আট বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত ছিলেন বলে কলেজের শিক্ষক সমিতির সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান। তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল ৯ টার মধ্যে নিয়মিত কলেজে আসা এই শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, কলেজের অধ্যক্ষ ও সহকর্মীদের মোবাইল ফোন রিসিভ না করার কারণে সন্দেহ সৃষ্টি হলে দুই জন শিক্ষক তার বাসায় খোঁজ নিতে গিয়ে বাসার দরজা ভিতর থেকে বন্ধ পান। তখন বাড়ির মালিক এবং পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে দরজার সিটকিনি ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে রান্না ঘরে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ দেখতে পান। পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করে সুরতেহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আব্দুস সালাম আত্মহত্যা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরহুমের স্ত্রী বরগুনা ও পিরোজপুরে পালাক্রমে থাকতেন। তার বড় ছেলে ঢাকায় চাকুরিরত এবং দুই জমজ মেয়ের একজন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও আরেকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
মৃতের সহকর্মীরা জনান, এই শিক্ষক ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সজ্জন, ভদ্র, নিরীহ ও নির্বিবাদী মানুষ ছিলেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার। অবসরে গিয়ে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের নিয়তও করেছিলেন। যে স্বভাবের মানুষ ছিলেন তাতে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন এরকম ঘটনা বিশ্বাস করতে চান না সহকর্মীরা।
