পরকীয়ার জের : নাজিরপুরে একজনকে কুপিয়ে জখম
পিরোজপুরের নাজিরপুরে পরকীয়ার জেরে মাসুম মোল্লা (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা শেখমাটিয়া ইউনিয়নের আমতলা খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মাসুম মোল্লাকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। মাসুম মোল্লা উপজেলার সেখমাটিয়া গ্রামের মৃত আনোয়ার মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মাসুম মোল্লার সাথে তার চাচাতো ভাই কামরুল মোল্লার স্ত্রী মুক্তার সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাসুম ঢাকায় রড় মিস্ত্রীর কাজে করায় বেশীর ভাগ সময়ই তাকে ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। বিগত এক বছর পূর্বে মুক্তা তার ৬ বছর বয়সের একমাত্র পুত্র ও স্বামীর সংসার ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়।
কামরুলের অভিযোগ তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমের কারণে সংসার ছেড়ে ঢাকায় মাসুমের কাছে চলে গেছে। মাসুম জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার জন্য মঙ্গলবার রাতে বাসযোগে ঢাকা থেকে রওয়ানা করে সকালে পিরোজপুরে আসে। সেখান থেকে মটরসাইকেল যোগে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে উপজেলা শেখমাটিয়া ইউনিয়নের আমতলা খেয়াঘাট এলাকায় পৌছলে কামরুল মোল্লা তার পথরোধ করে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে চাপাতী দিয়ে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে জখম করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাসুম মোল্লা বলেন, আজই আমি ঢাকা থেকে পিরোজপুর হয়ে মটর সাইকেল যোগে বাড়ী যাচ্ছিলাম। আমতলা খেয়াঘাটে কামরুল আমার পথরোধ করে চাপাতী দিয়ে আমাকে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে জখম করেছে। কামরুলের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। ওই ঘটনায় আমার হাত রয়েছে এ অভিযোগ করে হত্যার উদ্দেশ্যে সে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর থেকে কামরুল পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. কাওসার আহম্মেদ জানান, মাসুমের ডান হাত, ডান পা ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১২টি কোপের চিহ্ন দেখা যায়।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আমি নিজে হাসপাতালে গিয়ে জখমীর সাথে কথা বলেছি। তবে এখনও এ ঘটনায় লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
