কারণ জানতে চেয়ে আদালতের নির্দেশনা
পাইকগাছার শ্রীকন্ঠপুর উত্তরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রীয়া
পাইকগাছার ১০৩নং শ্রীকন্ঠপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে। বতমানের নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে পুনরায় নতুন তফসিল ঘোষণার দাবী জানিয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেছেন বিদ্যালয়ের জমি দাতা। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মামলার ৩-৮ নং বিবাদী গণের বিরুদ্ধে কেন অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করা হইবে না। তৎমর্মে নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের জমিদাতা তানজিলা বেগম সোমবার পাইকগাছা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৯৯/২০১৮ নং মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত), বিদ্যুৎসাহী পুরুষ ও মহিলা সদস্যকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালতের এ নির্দেশনার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। মামলার বাদী ও এলাকাবাসীর অনেকের মতে আদালতের নির্দেশনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রক্রীয়া চলমান রাখা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। অপরদিকে আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় নিয়মনীতি অনুযায়ী অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ মে মামলার ৭নং বিবাদী আবুল কালাম মোড়ল ও ৮নং বিবাদীকে আছিয়া পারভীনকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য মনোনীত করে ৭নং বিবাদীকে গোপনে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা সম্পন্ন বেআইনী। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত পুরুষ অভিভাবক সদস্য পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আহছানুর রহমান ফুটবল, আব্দুল খালেক গাজী দোয়াত কলম, মফিজুল গাজী মাছ ও হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ছাতা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ হরিঢালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ সরকার ও সহকারী দায়িত্ব পালন করেন রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সাঈদ। নির্বাচন প্রসঙ্গে আদালতের কোন বিষয় জানানেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। প্রার্থী হাবিবুর রহমানও একই মন্তব্য করেন। তবে এলাকাবাসীর পক্ষে আরশাদ আলী বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যখন আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এর মধ্য দিয়ে কোন নির্বাচন হলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ঘোষিত তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া উচিত। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী সাইফুল ইসলাম জানান, সকল নিয়মনীতি যথাযথ ভাবে অনুসরণ করে নির্বাচন প্রক্রীয়া চলমান রাখা হয়েছে। এলাকার অনেকেই বিদ্যুৎসাহী সদস্য হতে না পারাই ক্ষুদ্ধ হয়ে একজন মহিলাকে দিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত কারণ জানতে চেয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের কারণ জানতে চাওয়ার জবাব প্রদান করা হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
