আজ সরস্বতি পূজা
সাজ সাজ রবে সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে, পাড়ায়-মহল্লায় আজ সোমবার মাঘী শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে আনন্দঘণ পরিবেশে উদ্যাপিত হবে বিদ্যার দেবী সরস্বতি পূজা।
পঞ্জিকা মতে রবিবার রাত ১/১৯/৫১ সেকেন্ড থেকে আজ বেলা ১/২৮/৫৮ সেকেন্ড পর্যন্ত পঞ্চমী তিথির মধ্যে সর্বত্র অধিক জ্ঞাণ লাভের আশায় হংস বাহক, বীণা ও জ্ঞানের ভান্ডার বেদ হাতে শুক্লাবর্ণা বিদ্যাদায়ীনি দেবী সরস্বতি মায়ের রাতুল চরণে শিক্ষার্থীরা সারাদিন অনাহারে উপোষ থেকে সুদ্ধ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বস্ত্র পরিধান করে পুষ্প, বেল পল্লবী, দুর্ভা হাতে কড়ো জোড়ে বানুম ঠাকুরের “ওঁ সরস্বাত মহাভাগে বিদ্যে কমল লোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাং দেহী নমোহস্তুতে, ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্বৈ নমো নমঃ। বেদ বেদান্ত বেদাঙ্গ বিদ্যাস্থানভ্যঃ এব চ/এষ সচন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলি ওঁ ঐং সরস্বত্বৈ নমঃ” উচ্চারণে অঞ্জলী প্রদান করবেন।
শিক্ষার্থীরা দেবী সরস্বতির পূজা বেশি করার কারণ তিনি জ্ঞানদায়িনী বিদ্যার দেবী সরস্বতি তাই। পুজোর আগের দিন সংযম পালন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গভীর শিক্ষা দেয়। তবে এটা অবাস্তব হলেও সত্য বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমার প্রতি যে মন্ত্র তা বড়রা অনেকেই অনেকাংশে জানেন না। সত্ত্ব গুণের প্রতিক হলো সাদা আর সরস্বতি দেবীর রং ও সাদা তাই তাঁকে শুক্লাবর্ণা, জীবন ছন্দময় বীণার ঝংকারে উঠে আসে ধ্বনি বা নাদ। সরস্বতি ভক্তগণ সাধনার দ্বারা সিদ্ধি লাভ করলে বীণার ধ্বনি শুনতে পান। বীণার সুর মধুর হয় এবং জীবন ও মধুর সংীগতময় হয় এ কারনেই সরস্বতি মায়ের হাতে বীণা থাকে। পুস্কত কেন ? বিদ্যার্থীদের মূল লক্ষ্য জ্ঞান অন্বেষণ । আর সেই জ্ঞাণ ও বিদ্যা অন্বেষণের জন্য জ্ঞাণের ভা-ার ‘বেদ’ তাঁর হাতে থাকে। জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস। কারণ হাঁস অসার কে ফেলে সার গ্রহণ করে। দুধ ও জল মিশ্রণ করে দিলে হাঁস জল টুকু ফেলে শুধু দুধটুকুই গ্রহণ করে নেয়। কিংবা কাদায় মিশ্রিত স্থান থেকেও তারা খাদ্য খুঁেজ নিতে পারে। তাই যা কিছু সার বা ভালো তাই গ্রহণ করায় শ্বেত হংস তার বাহন। পূজা অন্তে ভক্তগণ মায়ের আশীর্বাদ স্বরূপ মহা প্রসাদ গ্রহণ করবেন। বামুন ঠাকুররা যতদ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে সেজন্য তাদের তাড়াও থাকে অনেকটা। কারণ সর্বত্রই মায়ের পূজা হবে। সব জায়গায়ই তো মন্ত্রপাঠে আর অঞ্জলি প্রদান কপোলে খাগের কলম লাগাবে জ্ঞান পিপাষু বিশেষত শিক্ষার্থীরা। বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তরুন-তরুনীরা বাহারী সাজে সুদ্ধ চিত্তে মায়ের রাতুল চরণে স্ব স্ব মণষ্কামনায় অনাহারি থেকে অঞ্জলী প্রদান করবেন। আর এদের সহযোগিতা করবেন শিক্ষকগণসহ শুভাকাঙ্খিরা।
মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা
ভান্ডারিয়া অফিস ঃ
জেলার ভান্ডারিয়ায় গতকাল রবিবার মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
বিদায় সংবর্ধণা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুজ্জামান মন্টুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন বাবুল, প্রভাষক মো. মুরাদ হোসেন, শিক্ষক আবুয়াল হোসেন, প্রবীর কুমার মিন্টু, মো. ইউনুস আলী, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম, বিদায়ী শিক্ষার্থী মুনিয়া আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, প্রিয়াংকা দাস বর্ণা পাল প্রমূখ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে গ্রামীণ জনপদের নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন জাতীয়পার্টি জেপির চেয়ারম্যান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তখন ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। সে বছর পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ১২জন। গত ২১ বছরে এখন ৪৫০ জন শিক্ষর্থী রয়েছে। এবছর পরীক্ষার্থী ৫০ জন। গতবছর ৪৫ জনে ৪৩ জন উত্তির্ণ হয়েছে। পাশের হার ছিল ৯৬%। শুধু বিদ্যালয়ই নয় নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য ১৯৮৯ সালে মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও প্রতিষ্ঠিত করেন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
