বিদেশ গিয়ে সংসার ভেঙেছে আক্কাস আলীর
দিন মজুর আক্কাস আলী সংসারের অভাব-অনাটন দূর করতে প্রায় এক যুগ আগে বিদেশে পাড়ি জমান। বাপের ভিটে-মাটি বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার অর্থ যোগার করেন তিনি। স্বপ্ন ছিলো প্রাবাসে থেকে অর্থ রোজগার করে দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করবেন।
কিন্তু এক যুগ পর দেশে ফিরে দেখেন স্ত্রী-পুত্র কেউই এখন আর তার আপন নেই। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থেরও কোন হদিস নেই। সবকিছুই যেন বেঠিক। যে সন্তান আর স্ত্রীর সুখের জন্য সবই ভুলে প্রবাসে থেকে রাত-দিন গায়ের ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করে যাদের জন্য টাকা পাঠিয়েছেন তারা এখন বুকে ছুরি ধরেছে।
স্ত্রী-পুত্রের নিষ্ঠুর আচরণে আক্কাস আলীর কান্নায় এখন ভারী হচ্ছে আকাশ-বাতাশ। নিজেকে কোন ভাবে শান্তনা দিতে পারছেন না। যাকে পাচ্ছেন তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আর এমনই করুণ ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাটের চিতলমারীতে।
চিতলমারী সদর বাজার সংলগ্ন ওয়াপদা ভেড়িবাধের বাসিন্দা মুনসুর আলীর পুত্র আক্কাস আলীর সাথে কথা হলে কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, জীবনে স্ত্রী’কে বিশ্বাস করে বড় ভুল করেছি। এমন বিশ্বাস ঘাতকতা মানুষ করতে পারে আগে জানা ছিলোনা। সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফেরানোর জন্য প্রায় এক যুগ বিদেশে কাটিয়েছি কিন্তু দেশে ফিরে দেখি সর্বনাশ হয়ে গেছে।
যে স্ত্রী সন্তানদের জন্য প্রবাসে রাত-দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছি তারা এখন আমাকে বিতাড়িত করেছে। এছাড়া আমাকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এখন বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে প্রতিবেশির একটি চিংড়ি ঘেরের পাড়ে আশ্রয় নিয়েছি। বিদেশ থেকে রোজগারের অর্থ স্ত্রীর ব্যাংক একাউণ্টে পাঠিয়েছি। এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছি কিন্তু সে টাকার কোন হদিস নেই। এখন আমাকে কোন পাত্তা দিচ্ছে না তারা। অন্য এক যুবকের সাথে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়েছে বলে জানতে পেরে এর প্রতিবাদ করায় তাকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম তাকে আর স্বামী হিসাবে মেনে নিতে কোন ভাবেই রাজি নয়। এছাড়া তার সাথে আর সংসার করবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে আক্কাস আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার স্বামীর সব অভিযোগ মিথ্যা। তার স্বামী দেশে ফিরে তাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ তুলে লোকের কাছে কুৎসা রটাচ্ছে। তার সাথে আর সংসার করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ইউএনও মোঃ আবু সাঈদ জানান, এ ব্যাপারে তার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আক্কাস আলী ও তার স্ত্রী ফরিদাকে ডেকে তাদের সমস্যার কথা শোনা হয়েছে। আক্কাস আলীর স্ত্রী’র সাথে বনিবনা না হওয়ায় এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
