খোলা বাজারে ভিয়েতনামের আতপ চাল ॥ কিনতে অনীহা ক্রেতাদের
ষ্টাফ রিপোর্টার :
খোলা বাজারে ৩০ টাকা দরের চাল পিরোজপুর জেলা শহরের ক্রেতারা কিনতে অনীহা দেখাচ্ছে। ডিলারদের কাছে খাদ্য বিভাগ ভিয়েতনাম থেকে আমদানীকৃত আতপ চাল সরবরাহ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রথম দিনে বিভিন্ন দোকানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে। পিরোজপুরে পাঁচ জন ওএমএস ডিলারকে দৈনিক ১০০০ কেজি করে মোট ৫০০০ কেজি আতপ চাল পাঁচ জন ডিলারকে বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রত্যেক ডিলার একসাথে পরপর দুই দিন বিক্রির জন্য ২০০০ কেজি করে আতপ চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন। গতকাল সোমবার সারাদিন ধরে মাত্র ৩৫৫ কেজি চাল বিক্রি করেন পৌর এলাকার পাঁচ জন ডিলার। এরমধ্যে থানা রোডে জহিরুল হক টিটুর দোকানে ২০ কেজি, বাসষ্ট্যান্ডের লোকমান সেখ ২৫ কেজি, হুলারহাটের মজনু তালুকদার ২০ কেজি, কলেজ রোডের জাহিদ হোসেন পিরু ৪০ কেজি এবং পৌর বাজারে গোলাম মাওলা নকীবের দোকান থেকে ২৫০ কেজি আতপ চাল বিক্রি হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চাল বিক্রির জন্য ওএমএস দোকান খোলা থাকলেও এ দোকান গুলো ছিল ক্রেতা শূণ্য। ওএমএস ডিলার লোকমান জানান, আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ আতপ চাল খেতে অভ্যস্থ না হওয়ায় মানুষ তা কিনছে না। খাদ্য বিভাগ থেকে অনেকটা জোর করে আতপ চাল সরবরাহ করায় ডিলারশীপ রক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে প্রথম দিন ১০০০ কেজি করে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রথম দিন তার দোকান থেকে মাত্র ২৫ কেজি চাল বিক্রি হওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। প্রথম দিনের ৯৭৫ কেজি চালসহ দ্বিতীয় দিনের আরও ১০০০ কেজি চাল দু’দিন কেন এক সপ্তাহেও বিক্রি করা যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ডিলাররা।
খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তদারককারী একজন সহকারী পরিদর্শক জানান, আতপ চাল সরবরাহ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২৫০ কেজি আতপ চাল বিক্রিকারী ডিলার গোলাম মাওলা নকীব জানান, তার দোকান বাজারের মধ্যে হওয়ায় বেশী পরিমাণ চাল ক্রেতারা কিনেছেন।
এ ব্যাপারে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ বলেন, আজই মাত্র খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। বিষয়টি লোকজনের জানতে একটু সময় লাগবে। দু’এক দিনের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যা দূর হয়ে যাবে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সঞ্জিত চাকমা জানান, সরকার ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত আতপ চাল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুদাম থেকে বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেয়ায় এ চাল ডিলারদের দেয়া হয়েছে। এ আতপ চাল দীর্ঘদিন গুদামে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয় বলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে আমদানিকৃত ভিয়েতনামী আতপ চাল সুগন্ধিযুক্ত এবং খেতে সুস্বাদু। ভোক্তারা এর গুনাগুন অচিরেই বুঝতে পারবেন।
