প্রধান সূচি

মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা বানভাসীদের সাহায্যে দান করলো পিরোজপুরের ৭ শিশু

স্টাফ রিপোর্টার :

বাসায় বসে টিভিতে বানভাসী মানুষদের দুর্দশা দেখে ওদের মন কাতর হয়ে উঠে। তাই ৭ টি মাটির ব্যাংকে সঞ্চয় করা ১৭৫০ টাকা দান করলো বন্যার্ত শিশুদের সাহায্যে। পিরোজপুর শহরতলীর মিনা শিশু নিকেতনের শিক্ষার্থী এ ৭ শিশু।

বিদ্যালয়ের যাওয়ার ভ্যান ভাড়া, নাস্তা খরচ, খেলনা কেনার খরচ সাশ্রয় করে গত পহেলা বৈশাখ থেকে ওরা যার যার ব্যাংকে এই সঞ্চয় করে আসছিল তারা। সঞ্চয় করছিলো মাটির ব্যাংকে। টিভিতে প্রতিদিনই দেখতে পায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মানুষের ঘর-বাড়ী, রাস্তা-ঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি শিশুদের স্কুলও। তাদের মত শিশুরা মা-বাবার সাথে আশ্রয়হীন, বস্ত্রহীন, খাদ্যহীন হয়ে মানবেতর অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। মানবতার এই বিপর্যয় পিরোজপুরের এ ৭ শিশুকেও সহানুভূতিশীল করে তোলে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার মরিচাল গ্রামের মিনা শিশু নিকেতনের শিক্ষার্থী সাকিল, ইরা, মুক্তা নিজেদের বাবা-মার কাছে এই সহানুভূতির কথা জানিয়ে তাদের মাটির ব্যাংকের সঞ্চয় বানভাসী মানুষের সাহায্যে দান করবে বলে ইচ্ছা প্রকাশ করে। বিদ্যালয় গিয়ে সহপাঠীদেরও তাদের এই মনোভাবের সাথী হতে অনুরোধ জানায়। কথাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম মাজেদ জানতে পেরে শিক্ষার্থীদের এই কোমল অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আরও নতুন উদ্যোগ নেয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন মীর ও অভিভাবক আলী হায়দার মোল্লা শিশুদের এই সহমর্মী আগ্রহকে আরও ব্যাপক করার কাজে নেমে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন শিশুদের এই সুন্দর অনুভূতির সাথে একাত্মতা জানাতে। তারাও এগিয়ে আসে। শিশুদের দেখাদেখি বিভিন্ন ব্যক্তি অনুদান দেয়। এভাবে আরও ২৮,২৯৪ টাকা জোগার হয়ে যায় বন্যার্ত মানুষের সাহায্যার্থে।

গতকাল রবিবার এই টাকা উত্তর বঙ্গের কোন এলাকায় দান করতে এই ৭ শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত হন পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। তারা এ অর্থ তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ এর হাতে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম সোহরাব হোসেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সঞ্জীব দাসসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটবৃন্দ।

শিশুদের এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের প্রতি ভালবাসা দেখিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ বলেন, আগামী প্রজন্মের সদস্যদের মাঝে গড়ে উঠা এই মনোভাব সুন্দর ও প্রশংসনীয়। পিরোজপুর শহরতলীর এই শিশু শিক্ষালয়টির ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-এলাকাবাসীর মহান উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুসরণীয়। এভাবে সবাই এগিয়ে এলে আর্তমানুষের কল্যাণ আরও গভীর হয়। জেলা প্রশাসক জানান, এই অর্থ ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে উত্তর বঙ্গের কোন একজন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে বানভাসীদের সাহায্যে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial