প্রধান সূচি

সরকারী সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জাতীয় শোক দিবসে কর্মস্থলে থাকলেন না বাগেরহাটের সোনালী ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্মকর্তা

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

সরকারী সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জাতীয় শোক দিবসে কর্মস্থলে থাকলেন না বাগেরহাটের সোনালী ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম। শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক আদর্শের কারনে তিনি ১৫ আগষ্ট জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর সাহাদত বার্ষিকি ও জাতীয় শোক দিবসে আসেননি। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের একাধিক সূত্রে জানায় সোনালী ব্যাংক লিঃ এর বিদেশে অবস্থিত শাখা সমুহে নিয়োগের জন্য নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গত  ১০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকায় যান। ১১ আগষ্ট শুক্রবার সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, এজিএম মোঃ শফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি জসিম উদ্দিন হলের আবাসিক ছাত্র থাকাকালিন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি তৎকালিন ঢাকসুর ভিপি আমান উল্লাহ আমান একান্ত সহচর ও ক্যাডার ছিলেন। শফিকুল ইসলামের অনেক সঙ্গী বাধ্যতামুলক অবসর ও ওএসডি হিসাবে কর্মরত থাকলেও তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে একের পর এক পদন্নতি নিয়ে বহালতবিয়তে চাকুরি করছেন। ২০১৬ সালে তিনি এজিএম পদে পদন্নতি নিয়ে মাগুরা থেকে ফেব্রুয়ারী মাসে বাগেরহাটে সোনালী ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে  যোগদান করেন। এজিএম পদন্নতি পাওয়ার পর তিনি গাড়ী ক্রয়ের জন্য সোনালী ব্যাংক থেকে  ২৫ লক্ষ টাকা ঋন গ্রহন করেন। কিন্তু তিনি  ২৫ লক্ষ টাকার গাড়ী না কিনে ৩৫ লক্ষ টাকার গাড়ী ক্রয় করায় ব্যাংক পাড়ায় এনিয়ে নানা গুনজন শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, এজিএম শফিকুল ইসলামের আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরনির ১০ বি তে দশ লক্ষ টাকা প্রদর্শিত না থাকার কারনে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে দুদকে এ বিষয়ে জনৈক এক ব্যক্তি  অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয়ে ব্যাংক পাড়ার কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলছে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে না এসে সরকারী সিদ্ধান্ত অমান্য করে বহাল তবিয়তে চাকরি করা এজিএম এর খুটির জোর কোথায় ?

এজিএম মোঃ শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ১৫ আগষ্ট মায়ের অসুস্থতার কারনে তিনি বাগেরহাটের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ১১ আগষ্ট থেকে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি জেনারেল ম্যনেজার কে মৌখিক ভাবে জানান । তিনি আরো জানান তিনি কখনোই কোন রাজ নৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলেন না। তবে জসিম উদ্দিন হল থেকে জামাত শিবিরের কর্মীদের মারপিঠ করে বের করে দিতেন।

এ জি এম শফিকুল ইসলামের ১৫ আগষ্ট কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে সোনলী ব্যাংক খুলনা জেনারেল ম্যনেজার মোঃ মোশার্ফে হোসেন এর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি মুঠো ফোনে জানান অফিসের কাজে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থাকার কারনে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেননা।  তিনি বিদেশ থেকে এসে সরাসরি ১৫ আগষ্টের অনুষ্ঠানে অংশনেন। তবে বিষয়টি তিনি খোজ নিয়ে দেখবেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial