নাজিরপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার
নাজিরপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর সেলিম হাওলাদার (৪৩) নামের এক ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিগঙ্গা নদীর ছোটবুইচাকাঠি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সেলিম হাওলাদার পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের আবু বক্কর হাওলাদারের ছেলে এবং শিল্পপতি সেকেন্দার আলী হাওলাদারের ভাগ্নে।
থানা পুলিশ ও নিহতের পারিবার সূত্রে জানা গেছে, সেলিম হাওলাদার ১৪/১৫ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নাজিরপুরের ছোটবুইচাকাঠি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন। গত বুধবার বিকেলে সেলিমকে বাড়ীতে রেখে তার স্ত্রী তিন মেয়েকে নিয়ে উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামে আত্মীয় বাড়ীতে বেড়াতে যায়। শুক্রবার সকালে সেলিমের সাথে তার স্ত্রীর সর্বশেষ কথা হয়। শনিবার সকালে সেলিমের স্ত্রী তার মেয়েদের নিয়ে বাড়ীতে এসে ঘরে তালাবদ্ধ দেখে এবং স্বামীর মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পান। অনেক খোঁজাখুঁিজর পর তাকে না পেয়ে সোমবার দুপুরে সেলিমের স্ত্রী সোহানা আক্তার রিতা নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। সোমবার বিকেলে সেলিমের মেয়ে সাজনীন আক্তার বাড়ীর সামনে কালিগঙ্গা নদীর তীরে খরগোসের জন্য ঘাঁস আনতে গিয়ে নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে চিৎকার করে। তখন স্থানীয়রা গিয়ে নদীতে লাশ ভাসতে দেখে থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। লাশের সাথে একটি ব্যাগ ভর্তি ইটসহ ঝোপের সাথে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং মাথায়, কপালে ও ডান চোখে একাধিক কোপের জখমসহ জিহবা বের হওয়া দেখা যায়। পরে পরিবারের লোকজন লাশটি সেলিমের বলে সনাক্ত করে। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই নিহতের মা শরীফা বেগম (৬০) বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শক্রতার জের ধরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ দোষীদের গ্রেফতারের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
