সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার :
এনে ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধার বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় শারিরীক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। রবিবার সকালে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাহমিনা আক্তার জুই (২৯) এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে মশিউর মৃধার সাথে তাহমিনার বিয়ে হয় এবং পিরোজপুর শহরের শিক্ষা অফিসের কাছে একটি ভাড়া বাসায় তাদের দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
২০১১ সালে ইউপি নির্বাচনের সময় তাহমিনার পরিবার নির্বাচন করা জন্য মশিউর রহমান মৃধাকে ১২ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে সে বিজয়ী হন। গত বছর ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মশিউর আবারও টাকা দাবি করলে তাহমিনার পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ঐ নির্বাচনে সে পরাজিত হয়। এরপর থেকেই সে বিভিন্নভাবে তাহমিনার উপর মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন শুরু করেন।
রবিবার ভোররাতে সেহেরির খাবার খাওয়ার সময় মশিউর আবারও জুই এর কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মশিউর তাহমিনাকে মারধোর শুরু করে। এ সময় তাহমিনা ডাক চিৎকার শুরু করলে মশিউর বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর খবর পেয়ে পার্শবর্তী মধ্যরাস্তা এলাকা থেকে তার পরিবারের লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা নেয়া হয়েছে।
এদিকে তাহমিনার ভাই বদিউজ্জামান শেখ রুবেল অভিযোগ করেন, মশিউরের এক মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয়টির প্রতিবাদ করায় মশিউর তার বোনের কাছে যৌতুক দাবিসহ বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারিরীকভাবে অত্যাচার করতেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মশিউর রহমান বলেন, তিনি তার স্ত্রীর উপর কোন ধরণের নির্যাতন করেননি কিংবা তার কাছে কোন প্রকার যৌতুকও দাবি করেননি।
এ ব্যাপারে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুমুর রহমান বিশ^াস বলেন, মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। তিনি আরও জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।
