উপজেলা চেয়ারম্যান-ইউপি চেয়ারম্যান বিরোধ ! মঠবাড়িায়ায় ৭ ইউপি চেয়ারম্যানের সম্মতি ছাড়াই এডিপির প্রকল্পের অনুমোদন
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ও রাজস্ব তহবিলের অর্থ বিভাজনের জরুরি সভা সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় ১১ জন ইউপি চেয়ারম্যানের ৪ জন রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর করলেও বাকি ৭ জন চেয়ারম্যান স্বাক্ষর দেন নি। ফলে প্রকল্প বাছাই কমিটির সদস্য ৭ জন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়াই চলতি অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ও রাজস্ব তহবিলের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এসময় ওই সভা থেকে ৭ ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ও রাজস্ব তহবিলের অর্থ বিভাজনের সভা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাক্ষর দেয়া থেকে বিরত থাকা গুলিসাখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো জানান, সভায় উপস্থিত হওয়ার পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাছাই কমিটির সভাপতি মোঃ আশরাফুর রহমানের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিন রেজুলেশন বহিতে সভায় উপস্থিত সকলের স্বাক্ষর নেয়া শুরু করেন। এ সময় ১১ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ৭ জন ইউপি চেয়ারম্যান রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষরের আগে এডিপি ও রাজস্ব খাতের অর্থের বিভাজন নিয়ে বিধি মোতাবেক আলোচনা করার আহবান জানান। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন যারা রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর করবেন না তারা সভায় উপস্থিত হয়ে মতামত দেয়া ঠিক হবে না। এ নিয়ে পরিষদের সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে বাক-বিতান্ডা হয়। পরে বাছাই কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে ২ সদস্য অনুপস্থিত ও প্রকল্প বাছাই কমিটির সদস্য ৭ ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না করায় বাকি ১০ সদস্যে সম্মতিক্রমে এডিপির গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
বিক্ষুদ্ধ ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাছাই কমিটির আহবায়ক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। ইউপি সদস্যরা কমিটির সদস্য। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকল্প বাছাই কমিটির কোন সভা না করে ইচ্ছেমত প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে দুই লাখ টাকার নিচের প্রকল্প জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশ থাকলেও ছোট ছোট প্রকল্প একীভূত করে প্যাকেজ দরপত্র আহবান করেন তিনি। উপজেলা ভূমি উন্নয়ন করের শতকরা দুই ভাগ টাকা উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন ছাড়াই ইচ্ছামত ব্যয় করে থাকেন উপজেলা চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদের কাবিখা, টিআরের কর্তনকৃত অর্থ, চাল, গম থেকে প্রকল্প গ্রহণে উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন ছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পছন্দমত ব্যক্তিকে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। এ ঘটনায় উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাকসুদা আক্তার ও ৭ জন ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সচিবের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের পিরোজপুরের উপ-পরিচালক কাজী তোফায়েল হোসেন তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
সোমবারের সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তার নেয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিন জানান, ইউপি চেয়ারম্যানদের বের করে দেয়ার যে গুজব উঠেছে তা সঠিক নয়। মুলত সভায় ইউপি চেয়রম্যানরা উপস্থিত থাকবেন কিন্তু রেজুলেশনে স্বাক্ষর করবেনা এটা হতে পারে না, এনিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আপত্তি দিলে ৭ চেয়ারম্যান সভা ত্যাগ করে করে চলে যান।
প্রকল্প বাছাই কমিটির আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান তার বিরুদ্ধে ৭ ইউপি চেয়ারম্যানের আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে জানান, উক্ত চেয়ারম্যানরা সভায় উপস্থিত থাকলেও রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর না করলে আমি এর প্রতিবাদ করি মাত্র।
