বানিজ্য মেলার নামে অবৈধ লটারী || বাগেরহাটে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ীতে ডাকাতি : স্বার্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
মাত্র এক সপ্তাহ আগে শহরের খারদ্বার এলাকায় ডাকাতির পর এবার দিনে দুপুরে বাগেরহাট শহরে আবারও দূধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের সোনাতলা এলাকায় অগ্রনী ব্যাংক মুনিগঞ্জ শাখার ম্যানেজার শেখ মকবুল ইসলামের বাড়ীতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাড়ীতে কেউ না থাকার সুযোগে ডাকাতরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে স্বার্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।
শেখ মকবুল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রী একজন স্কুল শিক্ষক। কাজের জন্য আমরা দু’জনকেই বাড়ীর বাইরে থাকতে হয়। এদিন দুপুরে আমার স্ত্রী স্কুল থেকে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা ও আলমারী ভাঙ্গা দেখতে পেয়ে আমাকে খবর দিলে আমি দ্রুত বাসায় চলে আসি। এসে দেখি আলমারীতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বার্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল নেই। আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জননেই বাড়ীতে না থাকার সুযোগে অজ্ঞাত ডাকাতরা আমার ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি জানান।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ীতে চুরির ঘটনায় এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। ওই ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে কথা হয়েছে। তার ঘরে থাকা কি পরিমান স্বার্ণালংকার ও নগদ টাকা খোয়া গেছে তার একটি তালিকা ও অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে শহরে পরপর দুইটি ডাকাতির ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকই বলছেন বাগেরহাট স্টেডিয়ামে চলা মাসব্যাপী শিল্প ও বানিজ্য মেলায় চলতে থাকা অবৈধ লটারীর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারন মানুষের মাঝে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিনের লটারীতে ‘প্রতিদিন পুরস্কার স্বপ্ন ছোয়া’ নামের এই র্যাফেল ড্র কোম্পানীটি জেলার সাধারণ মানুষের পকেট কেটে তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। মাত্র ২০ টাকার নগদ টাকা ও মোটরসাইকেলের প্রলোভনে সাধারণ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে কিনছে লটারীর টিকিট। আর সাধারণ মানুষের এ লোভকে কাজে লাগিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে একটি মহল। কিন্তু এর প্রভাব জেলার খেটে খাওয়া দিনমজুর ও সাধারণ মানুষগুলোকে অলস করে তুলছে। অন্যদিকে, শহরব্যাপী চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপ বেড়ে চলছে।
