আওয়ামী লীগ নেতা বলে কথা … মঠবাড়িয়ায় হত্যার চেষ্টা মামলার আসামীকে আটক করে ছেড়ে দিল পুলিশ !
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
মঠবাড়িয়ায় থানা পুলিশ একটি হত্যার চেষ্টা মামলার আসামী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বজলুর রহমানকে আটক করলেও আবার রহস্যজনক কারনে ছেড়ে দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ আটক ও ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। আর পুলিশের এ আচরণে এলাকাবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মিরুখালী বাজারের রহিমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মহিবুল্লাহের কাছে স্থানীয় সন্ত্রাসী রাজু ও তার দলবল প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। ওই দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে মহিবুল্লাহ জমাদ্দারকে একই এলাকার রাজু জমাদ্দারসহ ৭/৮ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় মহিবুল্লাহ বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর অনুসারী রাজু, নুরুন নবী গংদের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি চাঁদাবাজী ও হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় স্থানীয় মামুন জমাদ্দার স্বাক্ষী হওয়ায় গত ১ মে বজলু’র নির্দেশে এবাদ আলী, মাহাবুব খলিফা ও তাদের ভাড়া করা দলবল স্বাক্ষী মামুনের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় মামুন গত বুধবার রাতে বজলুসহ ১৫ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামী করে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করে।
আহত মামুন ও মামলার বাদী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার এস আই ওসমান গনির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই মামলায় আসামী আওয়ামী লীগ নেতা বজলুকে স্থানীয় মিরুখালী বাজার থেকে আটক করে দুই কিলোমিটার দূরে হারজী বাজারে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে রহস্যজনক কারনে তাকে ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে বজলুর রহমান জানান, আটক নয়, পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হারজী বাজারে নিয়ে গিয়েছিল।
দাউদখালী ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক রাহাত খান জানান, বজলুর রহমান ওরফে বজলু চাকর একজন চিহ্নিত ডাকাত। এলাকাবাসী তার অত্যাচারে অতিষ্ট। তার বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারপরও পুলিশ তাকে আটক করে আবার ছেড়ে দিল কেন তা বোধগম্য হচ্ছে না।
মঠবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম তারিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সাথে তিনি জড়িত কিনা তা যাছাই বাছাই করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
