পাইকগাছায় সড়কের ধুলোয় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা :
ভাঙ্গাচুরা খানা-খন্দে ভরা পাইকগাছার প্রধান সড়ক ধুলোর সড়কে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার ইট, খোয়া, পাথর, উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কার্পেটিং উঠে এবড়ো-থেবড়ো হয়ে পড়েছে। রাস্তার গর্তের মাটি, ইটের গুড়ো, ধুলোবালিতে ধুলোময় হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিদিন পরিবহন, বাস-ট্রাক, ছোট যানবাহনসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচল করায় সারাদিন সড়কের ধুলো উড়ছে। সড়কের ধুলোয় পথচারী, যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সড়কের দু’পাশের বাড়ী ঘর, দোকানপাট, সবুজ বৃক্ষ, ফসল ও সবজি ক্ষেত ধুলোয় বর্ণহীন হয়ে পড়েছে। একই সাথে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
জানাগেছে, পাইকগাছা জিরোপয়েন্ট থেকে কপিলমুনি ইউনিয়নের হরিঢালী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি। তবে এরমধ্যে আগড়ঘাটা বাজার এলাকা ও পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্রের সামনের কয়েকশত মিটার সড়ক সংস্কার হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গর্তে পড়ে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। এছাড়া ভংগুর সড়কে যানবাহন চলাচলের কোন শৃংখলা নেই। যে যেভাবে পাড়ছে সে সেভাবেই চলছে। এতে করে সড়কে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা বাড়ছে। চলন্ত যানবাহনের পিছনের উড়ন্ত ধুলোয় পথচারীরা দিশাহারা হয়ে পড়ছে। ধুলোর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এ জন্য অনেকে মুখে মাক্স ব্যবহার করছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্ষাকালে ভাঙ্গাচোরা সড়কের কাদা পানির বিড়ম্বনা আর এখন শুস্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে সড়কে চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের ধুলোয় স্থানীয় অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ নানা অসুখে ভুগছেন।
গদাইপুর গ্রামের চাষী রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষেতের লাউ, সিম শাক-সবজীর ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু খাওয়ার উপায় নেই। সড়কের ধুলোর স্তরের ঢেকে পড়েছে। পানি দিয়ে ধুলেও শাক-সবজি থেকে ধুলো যাচ্ছে না।
উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অশোক পাল জানান, সড়কের ধুলোবালিতে নার্সারির ছোট চারার ক্ষতি হচ্ছে। ঠিক মতো বাড়ছে না, ধুলোবালিতে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা চারা দেখে তা ক্রয়ে আগ্রহী হচ্ছে না। প্রতিদিন পানি দিয়ে চারা সতেজ রাখতে হচ্ছে, এতে করে বাড়তি খরচও হচ্ছে।
সড়ক সংলগ্ন বাড়ীর গৃহিনী রহিমা আক্তার বলেন, রান্না ঘরে কাপড় দিয়ে আলাদা পর্দা লাগিয়ে ধুলোবালি থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হচ্ছে না। ঘরের বিছনাপত্র, আসবাব পত্র দিনে তিন/চার বার পরিষ্কার করতে হয়। একদিন পরিষ্কার না করলে দেখে মনে হয় কয়েক বছরের পুরোনো।
পাইকগাছা কলেজের অধ্যাপক আজিজুর রহমান বলেন, বাসা থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরে বের হই। কর্মস্থলে পৌছানোর আগেই ধুলোবালিতে বিবর্ণ হয়ে যায়। চোখে মুখে ধুলোবালি লেগে থাকে।
রাস্তা সংলগ্ন বাজারের মুদি দোকানদার আমিরুল, উত্তম, মনিরুল, শফিকুল বলেন, সড়কের ধুলোয় প্রতিদিন দোকানের মালামালে ধুলোর স্তর পড়ছে। দেখলে মনে হয় কয়েক বছরের পুরোনো। সকাল বিকেল মালামাল পরিষ্কার করতে হচ্ছে। ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে নতুন বাজারের ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রতিদিন মেশিনের সাহায্য পাইপ দিয়ে বাজার এলাকায় পানি ছিটাচ্ছে। এছাড়াও গদাইপুর, বোয়ালিয়া মোড়, সরলসহ বিভিন্ন বাজার ব্যবসায়ীরা সড়কে পানি ছিটিয়ে ধুলা থেকে রক্ষা পেতে চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মামুন কাওছার জানান, পাইকগাছার প্রধান সড়ক সংস্কারের জন্য ১৫ কোটি বরাদ্দ হয়েছে। সড়কের সাড়ে ১১ কিলোমিটার রাস্তার কাজের টেন্ডার খোলা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ঠিকাদার নিয়োগ হবে এবং ঠিকাদার নিয়োগ হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সড়কে কাজ শুরু হবে।
