৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ
পিরোজপুর জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক মারুফ পোদ্দার গ্রেফতার
পিরোজপুরে জেলা যুবদলের বহিস্কৃত সাবেক আহবায়ক মো. মারুফ পোদ্দারকে (ওরফে মারুফ হাসান) গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি চাঁদাবাজীর মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পিরোজপুর শহরের ক্লাব রোডের ‘হোটেল বিলাস’ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর থানায় মারুফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলা রুজ হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত মারুফ পোদ্দার পিরোজপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নামাজপুর এলাকার মৃত রুস্তুম আলী পোদ্দারের ছেলে।
পিরোজপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের হোরের হাওলা গ্রামের বাসিন্দা ইট-বালু ব্যবসায়ী জুয়েল শেখ বাদী হয়ে মারুফ পোদ্দার (৪৮)সহ নামীয় তিনজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩জনকে আসামী করে একটি চাঁদাবাজী ও মারধরের মামলা দায়ের করেন। মামলার নামীয় অন্য দুই আসামী হলেন- পৌরসভার নামাজপুর এলাকার মোশারফ মোল্লার ছেলে মিরন মোল্লা (৫০) এবং একই এলাকার হাসেম মুন্সির ছেলে মিলন মুন্সি (৫০)।
মামলার এজাহারে বাদী জুয়েল শেখ অভিযোগ করেন, তিনি পিরোজপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ বলেশ্বর ব্রীজ সংলগ্ন মেসার্স রুমু এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। আসামী মারুফ পোদ্দার একজন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা এবং পেশাদার চাঁদাবাজ। গত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে মারুফ পোদ্দার তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের কাছে চাঁদা দাবী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখল করে আসছে। তার এসব কর্মকান্ডের কারণে জেলা যুবদলের আহবায়কের পদ থেকে তাকে বহিস্কারসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু এতেও মারুফ পোদ্দার কোনরূপ পরিবর্তন না হয়ে পূর্বের মতো প্রতিনিয়ত চাঁদা দাবী করে আসছে। তার ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। কিছুদিন পূর্বে মারুফ পোদ্দার আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং বালুর ব্যবসা করতে হলে তাকেসহ তার সহযোগীদের প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দিলে আমার ব্যবসা বন্ধ করে দিবে। আমি ও আমার ব্যবসায়িক পার্টনার রিপন চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তখন মারুফ পোদ্দার আমাকে মারধর করাসহ খুন জখমের হুমকি দেয়। উক্ত চাঁদা দাবীর বিষয় স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ স্থানীয় লোকজনদের জানালে মারুফ পোদ্দার ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৫ আগষ্ট দুপুর ১টার দিকে আসামী মিরন, মিলনসহ অজ্ঞাতানামা আরও ২/৩ জন লোক চাইনিজ কুড়াল, দাও, লাঠি, হকিস্ট্রিক, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বলেশ্বর ব্রীজ সংলগ্ন আমার মেসার্স রুমু এন্টারপ্রাইজ অফিসের সামনে এসে আমাকে ও আমার ব্যবসায়িক পার্টনার রিপনকে অফিসের সামনে পেয়ে পূর্বের দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা টাকা না দিতে চাইলে মারুফ পোদ্দার হকস্ট্রিক দিয়ে আমাকে এলোপাথারিভাবে পেটানো শুরু করে। এসময় ব্যবসায়িক পার্টনার রিপন আমাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে মারুফ, মিরন ও মিলন মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা আমাদের কিল ঘুষি মেরে, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে দৌঁড়ে অফিসের মধ্যে গেলে অফিসের দরজা লাগিয়ে আমার হাত-পা বেঁেধ মারধর করে এবং আমার বাড়ী থেকে তাদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এসময় আমার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আমাকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে করে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, একটি চাঁদাবাজীর মামলায় মারুফ পোদ্দার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঐ বছরের ১০ আগষ্ট রাতে পিরোজপুর জেলা যুবদলের আহবায়ক মো. মারুফ পোদ্দারকে দলীয় পদসহ দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিস্কার করা হয়।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে মারুফের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাসহ হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ উঠে। আর এসব অভিযোগের কারণেই তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।
