পিরোজপুরে এলজিইডির ঠিকাদারী কাজে দুর্নীতির মামলায় ৫ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেফতার : কারাগারে প্রেরণ
পিরোজপুরে এলজিইডি’র ঠিকাদারী কাজে দুর্নীতির মামলায় ৫ সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পিরোজপুর জেলা এ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মো. মোহাসীন, এসএএস সুপার মো. মাসুম হাওলাদার ও নজরুল ইসলাম, সাবেক জেলা এ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মো. আলমগীর হাসান, পিরোজপুর এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষক একেএম মোজাম্মেল হক খান।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৭ জনকে অভিযুক্ত করে ৮টি মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পিরোজপুরে এলজিইডি বিভাগের আওতায় উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি তদন্ত দল এসে ব্যাপক তদন্ত চালায়। তদন্তে বেড়িয়ে আসে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয়। একই সাথে ১ হাজার ১০১ কোটি টাকার ব্যয়ে গরমিল পায় তদন্ত কমিটি। আর এসব দুর্নীতির সাথে পিরোজপুর এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পিরোজপুর জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত বলে তদন্তে ওঠে আসে।
পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে এলজিইডি অফিসের অধীনে ৮টি প্রকল্পের আওতায় ৪০০টি উন্নয়নমূলক কাজের স্কীম দেখিয়ে ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমান পায় দুদক। পরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
পিরোজপুর দুদকের আইনজীবী মো. মুনসুর হাওলাদার জানান, গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এদিকে, পিরোজপুরে দুদকের মামলা ও আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদক এর পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসব্রিফিং-এ দুদক এর পিরোজপুর উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পিরোজপুর এলজিইডি অফিসের অধীনে ৮টি প্রকল্পের আওতায় ৪০০টি উন্নয়নমূলক কাজের স্কীম দেখিয়ে ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকা লোপাট করা হয়। এসব প্রকল্পের কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় নি। এছাড়া এসব ঠিকাদারী কাজের কোন সঠিক কাগজপত্রও এলজিইডি ও হিসাব রক্ষণ অফিসে নেই। ইচ্ছেমতো স্কীমের নাম দিয়ে এবং বিল ভাউচার করে এ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, পিরোজপুর এলজিইডি অফিসের সাবেক তিনজন নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক (পিডি), এলজিইডি’র সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, পিরোজপুর জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, সুপারসহ এলজিইডি এবং হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২৭জনকে আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তীতে রিমান্ড চাওয়া হবে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এলজিইডি’র আরো ৯টি প্রকল্পের কাজের তদন্ত চলমান রয়েছে। সেখানেও ব্যাপক দুর্নীতির প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত শেষে এসব প্রকল্পের আওতায় আরো ৯টি মামলা দায়ের করা হবে। মোট ১৭টি প্রকল্পের বিপরীতে আড়াই হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
