পিরোজপুরে নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি মোছাব্বির সানির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরে জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি মোছব্বির মাহমুদ সানির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা।
বুধবার বিকেলে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তায় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি সানির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকালে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাস্তায় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি সানির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ফাতেমা ইসলাম বলেন, সানিকে আমরা আন্দোলন ও আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও গঠনমূলক কাজের সাথে জড়তি থাকতে থাকতে দেখেছি। আন্দোলনের পর সেই আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারা ভোগ করছেন তিনি। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আমরা তার মুক্তি দাবি জানাই।
স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সানি অত্যন্ত ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হয়েছে আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানাই।
সানির মা বলেন, তার ছেলে কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বে ছিল বলে তার নামে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।
সানির স্ত্রী নাঈমা জানান, সানি বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হয়েছে। সে পিরোজপুরে ছিলো এবং আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানেও করে যাচ্ছে। এমনকি ৪ আগস্ট সানিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। ৫ আগস্ট সানি আন্দোলনকারীদের সাথে নিয়ে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত পিরোজপুর শহীদ মিনারে থাকে। যাতে কেউ আন্দোলনকারীদের মব জাস্টিসের নামে দোষারোপ করতে না পারে। সে রাতে মোমবাতি হাতে আনন্দ মিছিল হয়। সে মিছিলে আমিও ছিলাম। এরপর আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সানি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ও জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন, স্কুলে স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করে।
আন্দোলনের এতগুলো মাস পরে ও পতিত সরকারের পুর্নবাসন চলছে তখন সে আবার আওয়াজ তুলে ফেসবুকে লেখা লিখি শুরু করে। এ আওয়াজ তোলাই ওর জন্য কাল হয়ে যায় বলেও জানান সানির স্ত্রী ৷ সানির ছোট ভাই, মামা, আর দুলাভাইয়ের নামেও মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। যারা সানির পরিবারকে সাহায্য করার চেষ্টা করে তাদের পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, এখন সানির জন্য আমি এবং আমার শ্বশুরি আইনী লড়াই লড়ছি। একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী হয়েও আদালতে আসতে হচ্ছে আমাকে। এটা আমার জন্য অনেক কষ্টকর।
উল্লেখ্য, পিরোজপুরে চাঁদাবাজি, ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় সদ্য বিলুপ্ত জাতীয় নাগরিক কমিটির সদর উপজেলা প্রতিনিধি কমিটির ১নং সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা সমন্বয়ক মোছাব্বির মাহমুদ সানিকে গ্রেফতার করা হয়।
মার্চ মাসে পিরোজপুর শহরের শহীদ ওমর ফারুক সড়কে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুসাব্বিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ ও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পটির ঠিকাদার পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান ওরফে মালেক। তিনি পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
