প্রধান সূচি

পিরোজপুরে সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

সংস্কারের নামে নির্বাচন নিয়ে সময়ক্ষেপন করা যাবেনা

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সংস্কারের নামে সংসদ নির্বাচন নিয়ে সময়ক্ষেপন করা যাবে না। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাজ দায়িত্ব সংস্কার করা, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নয় সংবিধান সংস্কার করা, সংবিধান পূনমুদ্রন, সংবিধান পূন লিখন। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আর এসব সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার একটি স্বল্পকালীন মেয়াদের সরকার, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাজ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া।
বুধবার বিকেলে পিরোজপুর শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও দ্রæত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু গাজীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাহাবুবুল হক নান্নু, সহ পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ড্যাব নেতা ডা. রফিকুল কবির লাবু, সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম টিপু, বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) এলিজা জামান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রিয়াজউদ্দিন রানা, আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম আকনসহ জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ন্যাক্কারজনকভাবে ব্যবহার করেছিল। তারা তারা গুম, হত্যা, আয়নাঘর করে হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে বিগত ১৬ বছর ধরে বিএনপি আন্দোলন করে চলেছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগে সরকারের নির্যাতনের কারণে, মানুষের ওপর জলুমের কারণেই জুলাই-আগষ্ট বিপ্লব হয়েছে। ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্যেই সংস্কারসহ নতুন বাংলাদেশ গড়ার দিক নির্দেশনা রয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি রয়েছে। পতিত সরকার যাতে আবার ফিরে আসতে না পারে সেজন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। বিএনপিকে আরো একটি ধাপ পাড়ি দিতে হবে। কেননা বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ করতে পারছে না। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে পারছে না। দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে পারেনি, এটা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা।


নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবী অতি দ্রুত আওয়ামী সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হোক। আমাদের দাবী দ্রæত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। অতি দ্রæত নির্বাচন না দিলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক যে অস্থিরতা বেড়ে চলছে তা থামাতে পারবেন না।
তারা বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব এটা নয় যে আপনারা দীর্ঘসূত্রিতা করে অনেক বছর ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করবেন। কেয়ারটেকার সরকার দায়িত্ব এটা না কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব এটা না যে, কেয়ারটেকার সরকারের নামাবলী গায়ে দিয়ে, কেয়ারটেকার সরকারের ক্ষমতা উপভোগ করে আপনারা একটি তথাকথিত রাজনৈতিক দল গঠন করে যে কোন রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মধ্য দিয়ে আপনাদের ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করবেন। বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনীতির নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, কোন কোন উপদেষ্টা চেয়ারে বসে তাদের পৃষ্টপোশকতা করছে। তারা এসবের দায় এড়াতে পারবে না।
তারা বলেন, বিএনপি যখন হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, গণতন্ত্রের জন্য, মৌলিক অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছিল তখন শেখ হাসিনা কর্ণপাত না করায় বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমান এক দফার ডাক দিয়েছিলেন ‘এক দফা এক দাবী, শেখ হাসিনা কবে যাবি’। আরো দেড় যুগ আগে এই এক দফার ডাক দিয়েছিল বিএনপিই। তারই ধারাবহিকতায় ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial