পিরোজপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
পিরোজপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫৪১ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদকের পিরোজপুর কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক আরিফ হোসেন বাদী মামলাটি করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শামসুন্নাহারের নিজ নামে ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৮৯ টাকার কেনা জমি ও ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ১৬৫ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তার ওই সম্পদের মধ্যে তিন লাখ টাকা দেনা রয়েছে। শামসুন্নাহার পিরোজপুর সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল ১৪৭৭ নম্বর দলিলে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং একই সাব রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর ৩০২১ নম্বর দলিলে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের কেনা জমির তথ্য গোপন করেন। ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে শামসুন্নাহরের দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ১ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক নিজ হেফাজতে রাখায় মামলা করে দুদক।
দুদকের পিরোজপুর সূত্রে জানা গেছে, শামসুন্নাহার পিরোজপুর পৌরসভার বড় খলিশাখালী গ্রামের শেখ হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী। ২০০৯ সালের ২১ জানুয়ারি শামসুন্নাহার পিরোজপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর ছুটি নিয়ে কর্মস্থলে আর যোগদান করেন নি তিনি।
বৃহস্পতিবার পিরোজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আরিফ হোসেন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) এবং ২৭ (১) ধারায় একটি মামলা রজু করেন। ইতোপূর্বে শামসুন্নাহারের স্বামী শেখ হুমায়ুন কবিরে এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ ১৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৩৫ টাকা টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক তা নিজ ও স্ত্রীর হেফাজতে রাখার অপরাধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুরের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা মামলার মামলার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ১ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করর ঘটনায় উক্ত সরকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
