বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে মানুষের ঢল
ঈদের ছুটিতে পিরোজপুরের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে মানুষের ঢল লেগে আছে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিন এ সেতুতে মানুষের যেন উপছেপড়া ভীড় লক্ষ করা যাচ্ছে। পুরো সেতু এবং সেতুর নীচে কঁচা নদীর দুই পাড়েও রয়েছে বিনোদন প্রিয় মানুষের ঢল।
রঙ বেরঙের নতুন পোশাক পড়ে, সেজেগুজে পরিবার পরিজন নিয়ে তরুণ-তরুনী, যুবক-যুবতি, শিশু-কিশোর, মধ্য বয়সী নারী-পুরুষসহ সকল শ্রেণির মানুষ ক্ষনিকের আনন্দ প্রিয়জনের সাথে ভাগ করে নিতে ছুটে আসছে সেতুতে।
সেতুটি উদ্বোধনের পর এবার প্রথম ঈদ। ফলে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসা মানুষদের কাছে সেতুটি হয়ে উঠেছে বিনোদনের প্রধান স্থান। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেতুতে ঘুরতে আসা লোকজন নির্বিগ্নে অবস্থান করছে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বরিশাল-পিরোজপুর-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পিরোজপুরের বেকুটিয়া-কুমিরমারা পয়েন্টে কঁচা নদীর উপর এ্যাপ্রোচসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’র উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালী সেতু উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।
সেতু ও সেতুর আশ-পাশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেতুতে পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও বান্ধবের সাথে ছবি তোলা, প্রিয়জনের সাথে হাঁটা, সেতুর পাশে লাইন বেধে বসে গল্প করে সময় কাটানো, সেতুর নীচে কঁচা নদীর পাড়ে ছবি তোলা, বসে আড্ডা দেওয়া ও পল্প করা, নদীতে ট্রলার ও নৌকায় ঘুরে বেড়ানো নিয়ে মেতে উঠেছে বিনোদন প্রিয় মানুষ। সেতু ও সেতুর দুই পাড়ের মনোরম পরিবেশ, নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য বেঞ্চ ও ছাতার ব্যবস্থা থাকা, নির্মল বাতাস সব কিছু মিলিয়ে ভ্রমন পিয়াসী ও বিনোদন প্রিয় মানুষদের বিমোহিত করে তুলেছে সেতু এলাকা।

সেতুতে ঘুরতে আসা গৃহবধু ইসরাত জাহান জানান, পিরোজপুরে শ্বশুর বাড়িতে ঈদ করতে এসে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনসহ সেতুতে ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে খুবই ভাল লাগছে। চমৎকার একটি ব্রীজ হয়েছে এবং অনেক বড়। ব্রীজের আশপাশে বেশ খোলা জায়গা রয়েছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও বেশ সুন্দর। পরিবার নিয়ে ঘোরার একটি সুন্দর জায়গা হয়েছে সেতু এবং নদীর পাড়।
ঝালকাঠীর রাজাপুর থেকে ঘুরতে আসা রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিসান জানান, কঁচা নদীর উপর নির্মিত দৃষ্টি নন্দন এ সেতুতে ঘুরতে এসে খুবই আনন্দিত। এখানে এসে খুবই ভাল লাগছে। নদীর দুই পাড়ের প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে বন্ধু-বান্ধর, পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসার জন্য একটি ভাল স্পট।

এদিকে, সেতুতে ঘুরতে আসা মানুষদের জন্য সেতুর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে চটপটি, ফুসকা, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান। এছাড়া রয়েছে ফাষ্ট ফুড, কফি হাউজ, চাইনিজ রেষ্টুরেন্টও। বাচ্চাদের জন্য বসেছে খেলনাসহ মাটির তৈরী জিনিসপত্রে বাহারী দোকান।
