আদর্শ শিক্ষক সমাজ না হলে ছাত্ররা মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, আদর্শ শিক্ষক সমাজ না হলে ছাত্ররা মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না। নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না। আদর্শ ভবিষ্যতের কারিগর হবে না। সমাজে মাদক, অনৈতিকতার ভয়াল একটা ছোবল। এই ছোবল থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে আগামীতে যারা নেতৃত্ব দেবে তাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার রাতে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন ভাবে যেনো অনৈতিক লেনদেনে, অর্থের লেনদেনে খারাপ মানুষগুলো না আসে। এই জায়গাটা পঁচে গেলে একেবারে মগজে পঁচন ধরবে। রাজনীতি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যেনো শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ভাবে কোন বৈষম্যের সৃষ্টি না করে। কোন সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি না করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্বরূপকাঠিতে বড় একটি মাদ্রাসা আছে। এই স্বরূপকাঠিতে অসংখ্য সনাতন ধর্মালম্বীরা বসবাস করেন। হাজার বছরের ঐতিহ্য কখনও বিঘ্নিত হয়নি। ধর্মীয় বিভাজন কখনও আমাদেরকে সাম্প্রদায়িকতায় নিতে পারেনি। কারণ আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। অসাম্প্রদায়িকতার কথা শুনেছি। অসাস্প্রদায়িকতার প্রতিভূ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমরা সবাই পথ চলি। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সে ভাবেই বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ, অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মান করছেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিচ্ছেন। আমরা চাই শিক্ষা যেনো আদর্শিক শিক্ষা হয়।
মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষিত লোকের কাছ থেকে অনৈতিকতা খুব বেশী আসতে পারে না। একজন আদর্শ শিক্ষিত সন্তান খুব বেশী খারাপ হতে পারে না। সেজন্য শিক্ষার্থীদের আদর্শ শিক্ষা শিক্ষিত করুন। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মর্যাদাশীল হই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ইসহাক আলী খান পান্না, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাপ্তন ছাত্র এস এম মুইদুল ইসলাম মুহিদ, সাবেক যুগ্ম-সচিব ও প্রাপ্তণ ছাত্র বাসুদেব আচার্য, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব, অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক পৌর মেয়র গোলাম কবির, সমন্বয়ক শশাঙ্ক রঞ্জন সমাদ্দার।

পুনর্মিলনী উৎযাপন কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথিবর্গ ছাড়াও স্মৃতিচারণ করে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রবীন প্রাক্তন ছাত্র বিধুভূষন দত্ত, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা, মেজর (অবঃ) দেলোয়ারা, ইডেন বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক নুরুন্নাহার, প্রাক্তন ছাত্র প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপপরিচালক ডা. নুরুল আলম, ডা. নাসির আহম্মেদ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ঢাকাস্থ স্বরূপকাঠি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, মো. শাহীন, মোসা. মরফিয়া, তাহেরুল কবির দোলন, এডভোকেট বিপুল নারায়ন চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্ত জয়, নারী ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস জাহান।
এর আগে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান। পরে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। দিনভর স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সতীর্থদের আড্ডা আর খোশগল্পে দিনটি উপভোগ করেন হাজার হাজার অংশ গ্রহনকারী। রাতে ব্যান্ড শো এবং র্যাফেল ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঝমকালো অনুষ্ঠান।
