প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের রোলমডেলে পরিনত হয়েছে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা অনেক আগেই বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ হিসেবে উন্নিত হতাম। লাল-সবুজের পতাকার দেশ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষ্ময়কর নেতৃত্বে বিশ্বের রোলমডেলে পরিনত হয়েছে।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের সকলের শপথ নিতে হবে যে- কোনভাবেই স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবিরসহ স্বাধীনতা বিরোধী কোন শক্তিকে এবং আগুন সন্ত্রাসকারী, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারীদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাঈফ মিজান স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকি, এনএসআই’র যুগ্ন পরিচালক আব্দুল কাদের, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, মুজিবনগরে ১৯৭১ এর ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহনের পূর্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতকারী মো. আব্দুল বাকের, বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌতম চৌধুরী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক সেন্টু, সিনিয়র মো. মুনিরুজ্জামান নাসিম, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সম্পাদক গোপাল বসু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল ইসলাম লিটন সিকদার প্রমুখ।

সভায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে শেখ হাসিনার নিকটবর্তী কেউ নেই। শেখ হাসিনাই বাঙালির সব আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ আশ্রয়স্থল। শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন কিভাবে একটি বিপন্ন রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে একটি রাষ্ট্রকে দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে হয়। তিনি দেখিয়েছেন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সহাবস্থান থেকে কিভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয়। তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, তাহলে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল যে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল, সে সরকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্তদের স্বপ্ন সার্থক হবে। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতিতে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো, এটাই হোক ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রত্যয়।
শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছিল। সেটা ছিল ঐতিহাসিক এক মাহেন্দ্রক্ষণ। সেটা ছিল এক দুঃসাহসী অভিযান। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার যে সময় শপথ গ্রহণ করে তখন কেউ কল্পনাও করেনি এভাবে অর্থ-সম্পদহীন একটা সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা সম্ভব হবে, বিদেশের স্বীকৃতি আদায় করা যাবে। সবকিছু সম্ভব হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, তার ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে।
এ সময় প্রধান অতিথি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। লাল সবুজের পতাকার বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আজ উন্নয়নের ম্যাজিশিয়ান। করোনোর ভয়াবহ অবস্থাও বাংলাদেশকে বিপর্যস্ত করতে পারেনি তার অন্যতম কারণ একজন রাষ্ট্র নায়ক আমরা পেয়েছি যিনি বিশ্বের বিস্ময়। যিনি বিশ্বের সব সরকার প্রধানদের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। সততা, আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা এবং দেশপ্রেম যার অভীষ্ট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ এখানে পৌঁছেছে।
