প্রধান সূচি

বেটার হেলথ : প্রতিবন্ধি সহায়ক প্রজনন ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা বিষয়ক এডভোকেসি সভা

প্রতিবন্ধিদেরও আছে আট-দশজন অন্য সাধারণের মতো প্রজনন ও যৌন চাহিদা। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধি ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রজননক্ষম নারীদের প্রজনন ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জাপাইগো বাংলাদেশ (Jhpiego Bangladesh) কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। UNFPA এর সহায়তায় FCDO এর অর্থায়নে বেটার হেলথ ইনিটিয়েটভের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের সংবেদনশীল করার উদ্দেশ্যে  বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) পিরোজপুরে এক এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘ডাক দিয়ে যাই’ এর হলরুমে অনুষ্ঠিত এডভোকেসি সভায় পিরোজপুরে কর্মরত স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিদর্শিকা, পরিবার কল্যাণ সহকারী, স্বাস্থ্য সহকারী, নার্স এবং মিডওয়াইফবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।
সভায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকি, পিরোজপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. দিলীপ কুমার দাস, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইকবাল কবির, সহকারী পরিচালক ক্লিনিকাল কন্ট্রাসেপশন ডা. হংসপতি শিকদার এবং সহকারী পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা শহিদুল ইসলাম।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এডভোকেসি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা. রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্বাস্থ্য স্থাপনা প্রতিবন্ধি সহায়ক নয় এবং সেবা দানকারীদের সঠিক কোন গাইডলাইন ছিল না যে তারা কিভাবে একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রজননক্ষম নারীকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করবে। এজন্য সরকার গত ডিসেম্বরে ডিজএবিলিটি ইনক্লুসিভ ফ্যামিলি প্ল্যানিং সার্ভিস এর জন্য একটি স্টান্ডার্ড গাইডলাইন তৈরি করেছে।
তিনি আরো বলেন, একজন প্রতিবন্ধি ব্যক্তিকে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনার জন্য সরকারের পাশাপাশি নিবেদিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং সেই প্রতিবন্ধি ব্যাক্তির লোকাল গার্ডিয়ানদের ভূমিকা অপরিসীম।
সভায় পরিবার পরিকল্পনা সহায়িকারা তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, প্রায়ই মানসিক ভারসাম্যহীন ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধি অববাহিত নারীরা নীরব যৌন নীপিড়নের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়। তখন তাদের বিপদগ্রস্থ পরিবার স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে সাহায্য আশা করেন। যদিও সাধারণ বিবেচনায় দীর্ঘ মেয়াদি পদ্ধতি তাদের জন্য উপযুক্ত।
পিরোজপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপত্তরের উপ-পরিচালক ডা. দিলীপ কুমার দাস বলেন, অবিবাহিত বিপদগ্রস্ত মানসিক ভারসাম্যহীন/বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জনগোষ্ঠী সবসময়েই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে যাচ্ছে। তাই এসব বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জনগোষ্ঠী প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহী করার জন্য সরকার রেফারাল রিওয়ার্ড সিস্টেম চালু করেছে সারাদেশে। কোন দম্পতিকে দীর্ঘ মেয়াদি পদ্ধতিতে উৎসাহিত করলে সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে সরকার পুরস্কৃত করছে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইকবাল কবির বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে সমাজসেবা অধিদপ্তর যেকোন সময় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial