ঘরের সাথে কর্মসংস্থানে পাল্টে গেছে ভ্যানচালক রুমার জীবন
মাত্র ৬ বছর বয়সে তাকে পিরোজপুর শহরের রাস্তায় ফেলে যান তার স্বজনেরা। সেই থেকে ফুটপাতে বেড়ে ওঠা। ভিক্ষা করে জীবন চালিয়েছেন। ভ্যান চালিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন এই নারী। এরই মাঝে পাতেনও ঘরসংসার। বিয়ের সাড়ে ৭ বছর পর তার এক ছেলে সন্তান হয়। নাম রাখেন মো. ইব্রাহিম। এখন ছেলের বয়স ৫ বছর। কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। দুই বছর আগে স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে রুমা ও তার ছেলেকে ছেড়ে চলে যান। আবার একা হয়ে যান রুমা। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেন। মানুষের কটু কথা ও মনের দু:খে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বারবার। কিন্তু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে ফিরে আসেন। শেষে শুরু করেন ভিক্ষা। ভিক্ষা করে ফুটপাতে থেকে জীবন চলছিল তার। ভিক্ষা করে যখন তিনবেলা খাবার জুটছিল না তখন ভ্যান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন রুমা। ছেলেকে ফুটপাতে রেখে ভ্যান চালাতে শুরু করেন। ভ্যান চালিয়ে একবেলা খাবার খান। অনেক সময় না খেয়ে থাকেন। ফুটপাতে বস্তা গায়ে দিয়ে ঘুমান। লোকে কটু কথা বললেও সহ্য করেন।
রুমার এ অসহায় জীবন যাপনের বিষয়টি পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ এর নজরে আসলে রুমা বেগমের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। পরে তার কর্মসংস্থানের জন্য তৈরী করে দেওয়া হয় একটি দোকান।
সোমবার পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের লখাকাঠী গ্রামের রুমা বেগমের ঘরের পাশেই তার নিজস্ব কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি দোকানের উদ্বোধন করেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ। সদর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অর্থায়নে এ দোকান পেয়েছে রুমা। দোকার উদ্বোধনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মতিউর রহমান, টোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইমরান আলম খান হারুনসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ জানান, রুমা বেগম শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। তিনি একজন বিধবা নারী। তার ঘর বা আশ্রয় কিছুই ছিল না। তাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তাকে একটি ঘর প্রদান করা হয়েছে। ঘরের পাশেই কর্মসংস্থানের জন্য তাকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ও সদর উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের অর্থায়নে একটি দোকানঘর তৈরী করে দিয়ে মালপত্র কিনে দেয়া হয়েছে। আশা করছি তিনি এটি পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং তার আর কষ্ট করে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে না।
থাকার জন্য ঘর ও কর্মসংস্থানের জন্য দোকান পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে রুমা বেগম বলেন, আমায় এখন আর রাস্তায় থাকতে হবে না। পেটের খাবারের জন্য ভ্যান চালাতে হবে না। নিজের দোকানেই ব্যবসা করে জীবন চালাতে পারবো। ছেলেকেও মানুষ করতে পারবো। এই ঘর ও দোকান ড়েওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আমায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের জন্য সব সময়ই দোয়া করবো।
